নেত্রকোনার পানিশা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ: ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

নেত্রকোনার পানিশা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ: ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী..

Md MR Uzzal avatar   
Md MR Uzzal
নেত্রকোনার পানিশা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ: ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী..
নেত্রকোনার পানিশা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ: ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী..
ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যালয়ের সম্পদ আত্মসাৎ, গাছ কাটা ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে নেত্রকোনার পূর্বধলার পানিশা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।..

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের পানিশা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সম্পদ আত্মসাৎ, অনুমতিহীন গাছ কর্তন ও চরম প্রশাসনিক অবহেলার অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন এলাকাবাসী। গত ১৭ আগস্ট সোমবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির পাহাড় গড়ার অভিযোগ তোলেন। মূলত বিদ্যালয়ের মূল্যবান গাছ গোপনে বিক্রি, সরকারি অনুদানের অর্থের সঠিক হিসাব না রাখা এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার মতো গুরুতর অভিযোগগুলো স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিনের এসব অনিয়মের ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি, যা এলাকার শিক্ষাব্যবস্থাকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমন্বয় না রেখে একক সিদ্ধান্তে কার্যক্রম পরিচালনা করায় প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি চরম সংকটের মুখে পড়েছে।

ভুক্তভোগী অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না, বরং দিনের বেশিরভাগ সময় কর্মস্থলের বাইরে অবস্থান করেন। অনেক ক্ষেত্রে দুপুর গড়িয়ে গেলেও বিদ্যালয়ে তার দেখা মেলে না, অথচ হাজিরা খাতায় তিনি নিয়মিত উপস্থিতির স্বাক্ষর প্রদর্শন করেন। এছাড়া, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে থাকা দুটি বড় লম্বু গাছ প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই কেটে ফেলার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, ট্রান্সফার সার্টিফিকেট বা টিসি নিতে গেলে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রধান শিক্ষক চরম দুর্ব্যবহার করেন, যা শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ও বেলায়েত সরকারসহ একাধিক বক্তা অভিযোগ করেন যে, ৩০ বছর বয়সী এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীশূন্য হতে চলেছে। পাঠদান কার্যক্রমে শিক্ষকদের অনীহা এবং প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক তদারকির অভাবে বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার মান তলানিতে ঠেকেছে, যা স্থানীয় অভিভাবকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু বক্কর ছিদ্দিক জানিয়েছেন যে, বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগটি আমলে নিয়ে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে একে একটি মহলের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্যমতে, ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছগুলো তৎকালীন ইউএনও’র মৌখিক পরামর্শে এবং রেজুলেশনের মাধ্যমে কাটা হয়েছে এবং সেই কাঠ দিয়ে বিদ্যালয়ের ফার্নিচার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া জনবলের সংকটের কারণে দাপ্তরিক কাজে তাকে প্রায়ই বিদ্যালয়ের বাইরে থাকতে হয় বলেও তিনি দাবি করেন। তবে তার এই ব্যাখ্যা কতটা গ্রহণযোগ্য তা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই ঘটনাটি কেবল একটি বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং শিক্ষা প্রশাসনের তদারকির অভাব ও স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহিতার অনুপস্থিতির একটি প্রকট প্রতিফলন। বিদ্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ এবং তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামার ঘটনা প্রমাণ করে যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়মতো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষ প্রতিবেদনই কেবল এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে এবং পুনরায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, যদি তদন্ত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন না হয়, তবে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ চরম অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে, যার দায়ভার স্থানীয় প্রশাসনকেও বহন করতে হবে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও স্বচ্ছ তদন্তই এখন এই অঞ্চলের শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় একমাত্র পথ।

Nema komentara


News Card Generator