পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় সম্প্রতি সক্রিয় অটো চোর চক্রের পাঁচজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় সফলতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিযান চালিয়ে থানা পুলিশ এই অপারেশনের নেতৃত্ব দেয় এবং চুরিকৃত অটোরিকশার যন্ত্রাংশ এমনভাবে খণ্ডবিখণ্ড অবস্থায় উদ্ধার করে যে, তা একত্রে রাখা কঠিন হয়েছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চোরেরা অটো চালানোর জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল, যা উদ্ধার প্রক্রিয়াকে বেশ সময়সাপেক্ষ বানিয়েছিল।
স্থানীয় প্রতিবেদক, ভাণ্ডারিয়া থেকে জানায়, মূল চক্রের হোতাসহ এই পাঁচজনকে পাকড়াও করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটনার পরপরই পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া অঞ্চলে ব্যাপক আলোর প্রতিফলন ঘটিয়েছে। গত ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
ঘটনার মূল কাহিনী শুরু হয় ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে, যখন পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের বাসিন্দা ফারুক শিকদারের ছেলে সাইফুল আলম শিকদারের কাছ থেকে চুরি হয় তার একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা। ব্যাপক খোঁজাখুঁজির পর যখন কোনো সফলতা মেলেনি, তখন হতাশার ভেতর ডুবে থাকা মালিক বিষয়টি থানায় জানান। পুলিশ ঘটনা অনুসন্ধানে নেমে চুরির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত অটোরিকশা চালক মোঃ রায়হান জোমাদ্দারকে (২২) গ্রেপ্তার করে। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকিদের ধরার জন্য গভীর রাতে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়, এবং মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকা থেকে আরও চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোঃ রায়হান জোমাদ্দার (২২), যে বড় কানুয়া গ্রামের সালাম জোমাদ্দারের ছেলে এবং এই অপরাধ চক্রের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত। এছাড়া সুমন সিকদার (৪৫), মোঃ নুরুল ইসলাম (৫৫), মোঃ বক্কার হোসেন (৩২), এবং মোঃ শিপন ইসলাম (৩২) সবাই এই চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে সনাক্ত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ যথাযথ ধারায় মামলা রুজু করেছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
চুরিকৃত মালামাল উদ্ধার করার পর পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, চোরেরা তাদের পরিকল্পনামাফিক গাড়ির বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন করে দ্রুত বিক্রি করার ব্যবস্থা করেছিল, যাতে তা শনাক্ত করতে অসুবিধা হয়। এই ধরনের উদ্যোগ বিশেষত অটোচালক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিশাল উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এলাকার মানুষ পুলিশের তৎপরতায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করছে, কারণ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অপরিহার্য। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এমন অভিযান নিয়মিত হওয়া উচিত যাতে অপরাধীরা কোনোভাবেই তাদের কার্যকলাপ চালাতে না পারে।