আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ; আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ; আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ; আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা..
আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ; আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা..
ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো সত্ত্বেও সরকারের আশ্বাস বাস্তবে রূপ নেয়নি, বরং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা বারবার আটকে গেছে।..

তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা আজ শনিবার পুলিশি বাধার মুখে পড়েছেন। দশম গ্রেডসহ অন্যান্য দাবি আদায়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ অভিমুখে পদযাত্রা শুরুর সময় শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

এদিন বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের অ্যাকশনে কয়েকজন শিক্ষক আহত হন এবং তাদের সুসংগঠিত পদযাত্রা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

চারটি শিক্ষক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত মোর্চা ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ আজ সকাল ৯টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো শিক্ষক সেখানে জড়ো হয়ে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

শিক্ষকদের মূল ক্ষোভ হলো বেতন বৈষম্য নিয়ে। তারা জানান, তাদের সমমানের যোগ্যতাসম্পন্ন সরকারি বিভিন্ন পদের কর্মকর্তারা যেমন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই), সিনিয়র স্টাফ নার্স, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা—ইতোমধ্যেই দশম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। অথচ সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী হওয়া সত্ত্বেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা এখনও ১১তম গ্রেডে রয়েছেন।

শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো সত্ত্বেও সরকারের আশ্বাস বাস্তবে রূপ নেয়নি, বরং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা বারবার আটকে গেছে।

দীর্ঘ আন্দোলনের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ৭ আগস্ট ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অর্থ মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন না করে নবগঠিত পে-কমিশনে পাঠিয়ে দেয়। দুই মাস পর পে-কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে কমিশন জানায়, গ্রেড পরিবর্তনের এখতিয়ার তাদের নয়, এটি সার্ভিস কমিশনের বিষয়।

এ পরিস্থিতিতে, ১১তম গ্রেডের প্রস্তাব নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ তুলে শিক্ষকরা আবারও তাদের পুরোনো ও কঠোর দাবি—অর্থাৎ দশম গ্রেডে উন্নীতকরণের বিষয়টি সামনে এনে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

শিক্ষকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত তিনটি প্রধান দাবি হলো:

১. দশম গ্রেড প্রদান: সহকারী শিক্ষকদের জন্য দশম গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রদান। ২. উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান: ১০ বছর ও ১৬ বছর চাকরি পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান সংক্রান্ত জটিলতা ও সমস্যার স্থায়ী সমাধান। ৩. শতভাগ পদোন্নতি: সহকারী শিক্ষকদের জন্য শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা প্রদান।

আহত হওয়া সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় আছেন।

没有找到评论


News Card Generator