ইবি প্রতিনিধি:
পর্যটনকে নতুন রূপ দিতে ডিজিটাল এজেন্ডা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র্যালি, ফুড ফেস্টিভালসহ ৩ দিন ব্যাপি নানামুখী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) থেকে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ফুড ফেস্টিভাল মেলায় বিভিন্ন দেশীয় খাবার, পিঠা, কেক ইত্যাদির স্টলের আয়োজন করে শিক্ষার্থীরা।
এ সময় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবন থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে কৃষক, জেলে, বাউল, আদিবাসী ও ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পোশাক পরিধান করে বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাসুদ রানা, ড. আফরোজা বুলবুল, সহকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, প্রভাষক নাছির মিয়াসহ বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
ফেস্টিভ্যালে ঘুরতে যাওয়া আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০-২১ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল মাজেদ সাগর বলেন, 'বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে ট্যুরিজম ডিপার্টমেন্টের চমৎকার আয়োজনে এক অনন্য আবহের সৃষ্টি হয়েছে। মেলায় দেশ-বিদেশের বৈচিত্র্যময় খাবার, ঐতিহ্যবাহী পালকি ও প্রাচীন চিঠিপত্রের মতো আয়োজন চিরায়ত বাংলা ও বিশ্ব সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন ফুটিয়ে তুলেছে, যা ভ্রমণপিপাসুদের নতুন সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে এবং জ্ঞান অর্জনে দারুণ সহায়তা করছে। এমন প্রাণবন্ত ও শিক্ষণীয় মেলার সফল আয়োজনের জন্য আয়োজক কমিটিকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানান তিনি।
ফুড ফেস্টিভলে স্টল দেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, 'ট্যুরিজম বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী ফুড ফেস্টিভাল এবং সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়েছে। এই ফুড ফেস্টিভলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ এবং বিভিন্ন সংগঠন থেকে স্টল দেওয়া হয়েছে। যেখানে আমরা বিভিন্ন ফুডের স্টল দিয়েছি, বিভিন্ন রকমের খাবার বিক্রি করছি ও ট্যুরিজম বিভাগকে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।'
ফেস্টিভ্যালে বিভাগের প্রভাষক ইয়ামিন মাসুম বলেন, আমাদের বিভাগের পক্ষ থেকে নানামুখী কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা বিশ্ববাসীকে জানাতে চাই, ট্যুরিজম একটি সম্প্রসারণশীল শিল্প এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তি- যেমন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবটিক্স ও বিগ ডাটা অ্যানালিটিক্স ট্যুরিজমের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এরই অংশ হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চার দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী পর্যটনের প্রচার ও প্রসারে ১৯৮০ সাল থেকে জাতিসংঘের পর্যটন বিষয়ক সংস্থা ‘ইউএন টুরিস্ট’ ঘোষিত এ দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হয়ে আসছে।