ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সাপের উপদ্রব নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে আবাসিক হলগুলোর আশপাশে জঙ্গল, ময়লা-আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ থাকায় সাপের উপদ্রবের ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এর বাহিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি এলাকা, ডায়না চত্বর,ল্যাবরেটরী স্কুল সংলগ্ন এলাকায় বিষধর কালাচ এবং গোখরা সাপের দেখা মিলেছে বলে জানা যায়। এছাড়া জুলাই ৩৬ হল, আয়েশা সিদ্দিকা হল এবং খালেদা জিয়া হলে একাধিকবার সাপ দেখা গেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে খালেদা জিয়া হলের ডাইনিংয়ে একটি বিষধর কালাচ সাপ দেখা যায়। এর আগে ১১ তারিখ রাত ২টার দিকে দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুমের সামনের দরজায় সাপ দেখা যায়। এছাড়া গত মাসের ২৭ তারিখে তৃতীয় তলার পেছনের অংশেও সাপ দেখা যায়। হলের পেছনে দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল ও ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকায় এসব জায়গা সাপের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্যাম্পাসের এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করায় হঠাৎ করে যেভাবে সাপের উপদ্রব বেড়েছে তা শিক্ষার্থীদের জন্য আতঙ্কেের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অবকাঠামো, অপরিচ্ছন্নতা এবং জঙ্গল পরিষ্কার না করার কারণে আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। তারা নিয়মিতভাবে ক্যাম্পাস ও হলগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিষ্কার, জঙ্গল অপসারণ এবং সাপের উপদ্রব রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট অফিসের পরিচালক আলাউদ্দিন বলেন, ‘হলের আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছি। আমরা আশা করি, দুই-তিন দিনের মধ্যেই এটা ঠিক হয়ে যাবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাজ চলমান।
খালেদা জিয়া হলের নবনিযুক্ত প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আয়নুল হক আকন্দ বলেন, ‘আমি আজকে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। ক্যাম্পাসে সাপের উপদ্রবের ব্যাপারে ইতোমধ্যেই জেনেছি। উপাচার্য স্যার এটা নিয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। হলের ব্যাপারটা আপনাদের মাধ্যমেই জেনেছি। অতিশীঘ্রই হলের আশপাশের এলাকা ক্লিন করে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, হলের নিচতলার জানালায় কোনো ভাঙা গ্লাস থাকলে সেগুলো পরিবর্তন এবং হলের দেয়ালে ঝুঁকিপূর্ণ ফাঁকফোকরগুলো সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করব।’