বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ভর করবে তাদের কাজের মান ও নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিশ্চিত করার ওপর।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক নির্ভর করবে সরকারের কার্যক্রম ও কাজের মানের ওপর। তিনি বলেন, সরকার কতটা দায়িত্বশীলভাবে তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কতটা সক্ষম হয়, সেটাই হবে মূল মূল্যায়নের বিষয়। তারেক রহমানের মতে, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনই এখন অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ, এবং সেই কাজের সফলতা দিয়েই বিচার করা হবে তাদের ভূমিকা।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বিবিসি বাংলার সঙ্গে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্বে তারেক রহমান এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তাদের কাজের ওপর নির্ভর করে। তারা ভালো করলে আমরা সেটাকে ইতিবাচকভাবে দেখব, আর যদি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে সমালোচনাও থাকবে।”
তারেক রহমান আরও বলেন, তিনি প্রত্যাশা করেন অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। তিনি মনে করেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য প্রয়োজন একটি নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন, যা শুধু বিএনপি নয়, পুরো জাতির প্রত্যাশা।
সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে আগের প্রশ্ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “আমি যখন নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম, তখনো তারা নির্বাচনের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো রোডম্যাপ দেয়নি। সেই সময়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সন্দেহ ছিল—আসলে তারা কতটা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে।”
তিনি আরও বলেন, “তবে এখন ড. ইউনূস যখন নির্বাচনের একটি মোটামুটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন, তখন সেই সন্দেহ অনেকটাই কেটে গেছে। এখন সময়ই প্রমাণ করবে তারা কতটা প্রতিশ্রুতিশীল।”
তারেক রহমানের এই বক্তব্য বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান ও অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের দিক নির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই বার্তা মূলত একধরনের ‘কৌশলগত অপেক্ষা’—যেখানে তিনি সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী অবস্থান নির্ধারণ করতে চান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমরা চাই না কেউ পক্ষপাতমূলক আচরণ করুক। যদি অন্তর্বর্তী সরকার সত্যিই নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, তবে সেটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন হবে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারেক রহমান একদিকে যেমন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি একটি সতর্ক বার্তা দিয়েছেন, অন্যদিকে তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন।
বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, আর বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলও অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন সময়ই বলে দেবে।