মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সরকারের উন্নয়ন দর্শনের মূল ভিত্তি ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, যার মধ্যে খাল খনন প্রকল্প এবং ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য বকনা বাছুর বিতরণের মতো উদ্যোগগুলো উল্লেখযোগ্য। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই দেশের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়নের যে ধারা সূচিত হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই তৃণমূলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মূলত প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদের খামারভিত্তিক অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত করে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বকনা বাছুর বিতরণ কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, আজ যাদের হাতে বকনা বাছুর তুলে দেওয়া হচ্ছে, তারা যদি নিষ্ঠার সাথে গবাদিপশু লালন-পালন করতে পারেন, তবে অদূর ভবিষ্যতে তারাই সফল খামারি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন। এই প্রক্রিয়ায় একদিকে যেমন দেশের প্রাণিসম্পদ বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে প্রান্তিক পরিবারগুলো সরাসরি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করতে সক্ষম হবে। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু দাবি করেন, বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকে, তখন জনগণ প্রকৃত সুফল ভোগ করে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। তিনি সরকারের এই উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে জনবান্ধব নীতির প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করে বলেন যে, তৃণমূলের মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে না পারলে জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আলোচনায় এনে প্রতিমন্ত্রী বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে খুন, গুম ও নির্যাতনের যে সংস্কৃতি গড়ে তুলেছিল, তা থেকে মুক্তি পেয়েছে জনগণ। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারণ করেন যে, যারা অতীতে অমানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে এবং এখনো হুমকি-ধামকি দিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় আসার ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বিরুদ্ধে দেশের জনগণ সজাগ রয়েছে। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মন্তব্য করেন যে, ফ্যাসিবাদী শক্তির কোনো অনুশোচনা নেই এবং তারা এখনো ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকায় কোনো অশুভ শক্তিই গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারবে না। তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যেকোনো মূল্যে এই গণতান্ত্রিক ধারাকে রক্ষা করতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো কেবল সরকারি অনুদান নয়, বরং এটি একটি টেকসই অর্থনৈতিক মডেল তৈরির প্রচেষ্টা। যদি তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ তাদের নিজস্ব উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারে, তবেই দেশের সামগ্রিক জিডিপিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রতিমন্ত্রী নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রই যেন দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকাই এখন সময়ের দাবি। আগামী দিনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এই অর্থনৈতিক মুক্তিই হবে সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করবে।