পিআরের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ফিরে আসতে পারে: রাশেদ খান | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

পিআরের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ফিরে আসতে পারে: রাশেদ খান

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
পিআরের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ফিরে আসতে পারে: রাশেদ খান
পিআরের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ফিরে আসতে পারে: রাশেদ খান
ছবি: সংগৃহীত
Rashed Khan, General Secretary of the Ganadhikar Parishad, warned that the Awami League might return to power through the Proportional Representation (PR) system, creating new divisions and reviving f..

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হতে পারে। তিনি বলেছেন, এটি দেশে নতুন বিভাজন তৈরি করতে পারে এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের একত্র করার সুযোগ তৈরি করবে।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, পিআর বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ঘটতে পারে। তার মতে, এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন হলে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে বিভাজন সৃষ্টি হবে এবং ফ্যাসিবাদী শক্তি পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘আগামী নির্বাচন গুণমানসম্পন্ন ও সবার জন্য গ্রহণযোগ্য করার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নাগরিক যুব ঐক্য। সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বেলা ১টা পর্যন্ত চলে এ সভা।

রাশেদ খান তার বক্তব্যে বলেন, “গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ফ্যাসিবাদ এখনো বন্ধ হয়নি। আমরা উপদেষ্টা সংস্কারের কথা বলেছিলাম, কিন্তু কয়েকজনকে এনজিও উপদেষ্টা বানিয়ে শপথ পড়ানো ছাড়া আর কোনো ফল হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “যে গাদ্দার উপদেষ্টাদের কথা সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তাদের নাম প্রকাশ করতে হবে। যদি তাদের ষড়যন্ত্রে গণ-অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়, তাহলে এর দায় নাহিদ ইসলামকেই নিতে হবে।”

তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, “সরকার কোনো বাস্তব সংস্কার করতে পারেনি। শুধু শেখ হাসিনা পালিয়েছে, কিন্তু ফ্যাসিবাদী কাঠামো থেকে গেছে।” তার মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতি কার্যকর করা সম্ভব নয়। কারণ, এই পদ্ধতি আওয়ামী লীগের জন্য ‘নতুন পথের পুনর্বাসন’ হিসেবে কাজ করবে।

রাশেদ খান আরও বলেন, “পিআরের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবারও ফিরে আসতে পারে। এ কারণে ফ্যাসিবাদ ও ভারতের আধিপত্যের প্রশ্নে আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই মুহূর্তে যদি রাজনৈতিক দলগুলো বিভক্ত হয়, তাহলে জনগণের বিজয়ও বিপন্ন হতে পারে।”

একই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু। তিনি বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে যদি নির্বাচন না হয়, তাহলে দেশে নতুন সংকট দেখা দিতে পারে। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে বিরোধ বাড়বে, আবার আওয়ামী লীগপন্থী ভোটারদের নিয়েও টানাটানি শুরু হবে।”

মঞ্জু আরও বলেন, “ইতিহাসে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত—এই তিন শক্তির মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনই দেশে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। জাতির স্বার্থে যদি তারা দায়িত্বশীলভাবে আচরণ করে, তাহলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশেদ খানের বক্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। তিনি যেখানে পিআর পদ্ধতিকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য ‘ফেরার পথ’ হিসেবে দেখছেন, সেখানে অনেকেই এই ধারণাকে গণতন্ত্র শক্তিশালী করার বিকল্প উপায় হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে রাশেদ খান ও গণঅধিকার পরিষদের অবস্থান স্পষ্ট—তারা মনে করেন, এই প্রক্রিয়া ফ্যাসিবাদের পুনর্জন্ম ঘটাতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পিআর পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। কেউ বলছেন এটি ছোট দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে, আবার কেউ বলছেন এটি বড় দলগুলোর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পিআর পদ্ধতি কার্যকর করা হলে মাঠ পর্যায়ের ভোটারদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক দুর্বল হতে পারে। তবে গণঅধিকার পরিষদসহ বেশ কিছু নতুন রাজনৈতিক শক্তি মনে করছে, গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে নতুন ধরণের রাজনীতি গড়ে ওঠা উচিত, যেখানে ফ্যাসিবাদী চিন্তাধারা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যক্ত হবে।

রাশেদ খান তার বক্তব্যের শেষদিকে বলেন, “আমরা চাই, দেশের রাজনীতি জনগণের হাতে ফিরে আসুক। আওয়ামী লীগ বা ফ্যাসিবাদী কোনো শক্তির পৃষ্ঠপোষকতা নয়, এই দেশ জনগণের রক্তে অর্জিত—এই সত্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

Aucun commentaire trouvé


News Card Generator