আমিনবাজারে বাস সংকটে জনদুর্ভোগ: সার্ভিস বাসের অনিয়ম, চালকদের দুর্ব্যবহার ও মালিকদের উদাসীনতা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

আমিনবাজারে বাস সংকটে জনদুর্ভোগ: সার্ভিস বাসের অনিয়ম, চালকদের দুর্ব্যবহার ও মালিকদের উদাসীনতা..

Alamin hosen suvo avatar   
Alamin hosen suvo
আমিনবাজারে বাস সংকটে জনদুর্ভোগ: সার্ভিস বাসের অনিয়ম, চালকদের দুর্ব্যবহার ও মালিকদের উদাসীনতা..
আমিনবাজারে বাস সংকটে জনদুর্ভোগ: সার্ভিস বাসের অনিয়ম, চালকদের দুর্ব্যবহার ও মালিকদের উদাসীনতা..
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানী সংলগ্ন আমিনবাজারে প্রতিদিন হাজারো মানুষ কলেজ, অফিস ও ব্যবসায়িক কাজে বের হন। কিন্তু পর্যাপ্ত সার্ভিস বাস না থাকায় এবং বিদ্যমান বাসগুলো নিয়মবহির্ভূতভাবে চলায় যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।..

 

রাজিয়া সুলতানা প্রতিদিন সকালেই কলেজে যাওয়ার জন্য বের হন। কিন্তু রাস্তায় নামলেই শুরু হয় তার দুঃসহ অপেক্ষা—একটি বাস ধরতে কখনো লাগে এক ঘণ্টা, কখনো দুই। নির্দিষ্ট সময়ের ক্লাসে পৌঁছানো তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। শুধু রাজিয়া নন, প্রতিদিন অফিসগামী শত শত মানুষকেও ঘন্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় আমিনবাজার স্ট্যান্ডে।

 

যাত্রীরা জানিয়েছেন, ফেরার সময়ও পরিস্থিতি একই রকম। অনেক সময় বাস থামে না, কেউ জোর করে উঠতে গেলে চালক ও হেলপারদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি এমনকি হাতাহাতি পর্যন্ত হয়। অনেক সময় গাবতলী বা পর্বত স্ট্যান্ডে যাত্রীদের জোর করে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

 

সমস্যার মূল কারণ হিসেবে যাত্রীরা বলেন, “আমিনবাজারের সার্ভিস লাইন দিয়ে চলাচল করা বাসগুলো এখন আর নিচের রাস্তা ব্যবহার করে না। তারা উড়ালসড়ক বা ফ্লাইওভার দিয়ে চলে যায়, ফলে আমরা সার্ভিস বাসের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।”

 

বিশেষ করে রাজধানী ইতিহাস, মৌমিতা ঠিকানা, ও ধামরাই-গুলিস্তান রুটের বাসগুলো সার্ভিস রোডে না এসে সরাসরি ফ্লাইওভার ব্যবহার করছে। এর ফলে আমিনবাজার এলাকার বাসিন্দারা প্রতিদিন মারাত্মক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

 

স্থানীয় ছাত্র সমাজ জানায়, “আমরা কয়েকবার রাস্তায় নেমেছি, প্রশাসন ও বাস মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করেছি, কিন্তু কোনো কার্যকর সমাধান পাইনি। মালিক পক্ষের উদাসীনতার কারণেই এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলছে।”

 

বাস চালকরা দাবি করেন, ফ্লাইওভার দিয়ে চলা সময় সাশ্রয়ী এবং যানজট কম। তবে যাত্রীদের অভিযোগ—এটি শুধুই চালক ও মালিকদের সুবিধার জন্য, জনগণের নয়। যাত্রীরা মনে করেন, বাসগুলো যদি নির্দিষ্ট নিয়মে সার্ভিস রোড ব্যবহার করত, তাহলে এ দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে যেত।

 

বাস মালিক সমিতির কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না থাকায় সমস্যাটি দিন দিন তীব্র হচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত রুট ব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

প্রতিদিনের এই ভোগান্তি শুধু সময় নষ্ট করছে না, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের মানসিক চাপও বাড়াচ্ছে। কলেজ, অফিস বা ব্যবসায়িক স্থানে নিয়মিত দেরিতে পৌঁছানোর কারণে পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়ছেন অনেকে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “প্রতিদিন সকালে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, আবার ফেরার সময়ও আরেক ঘণ্টা। কখনো কখনো বাধ্য হয়ে সিএনজি বা মোটরসাইকেল ভাড়া করতে হয়, যা অর্থনৈতিক চাপ বাড়ায়।”

 

 

---

 

সম্ভাব্য সমাধান ও জনগণের দাবি:

 

🔹 সার্ভিস রোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা: প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট রুটে বাস চলাচল নিশ্চিত করা।

🔹 নির্দিষ্ট স্টপেজ ব্যবস্থা করা: আমিনবাজারে যাত্রী ওঠানামার জন্য চিহ্নিত স্টপেজ স্থাপন।

🔹 চালকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা: দুর্ব্যবহার বা যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার ঘটনার জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা।

🔹 বাস মালিক সমিতির দায়বদ্ধতা: মালিকদের রুট শৃঙ্খলা মানতে বাধ্য করা এবং নিয়মিত মনিটরিং চালু করা।

 

রাজধানী ঢাকার প্রবেশমুখে অবস্থিত আমিনবাজার প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াতের অন্যতম কেন্দ্র। অথচ সামান্য পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীলতার অভাবে এই এলাকার মানুষকে প্রতিদিন এমন হয়রানি সহ্য করতে হচ্ছে।

জনগণের প্রত্যাশা—সরকার, বিআরটিএ, এবং বাস মালিক সমিতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, যেন “যাত্রা” হয় নিরাপদ ও সময়নিষ্ঠ।

 

Geen reacties gevonden


News Card Generator