ড. ইউনূসকে হেনস্তা করতে নিউইয়র্কে এসে আত্মগোপনে ঘাঁটি গেড়েছিলেন নিঝুম মজুমদার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ড. ইউনূসকে হেনস্তা করতে নিউইয়র্কে এসে আত্মগোপনে ঘাঁটি গেড়েছিলেন নিঝুম মজুমদার..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ড. ইউনূসকে হেনস্তা করতে নিউইয়র্কে এসে আত্মগোপনে ঘাঁটি গেড়েছিলেন নিঝুম মজুমদার..
ড. ইউনূসকে হেনস্তা করতে নিউইয়র্কে এসে আত্মগোপনে ঘাঁটি গেড়েছিলেন নিঝুম মজুমদার..
ছবি: সংগৃহীত
Awami League leader Nizhum Mojumdar planned to harass Dr. Yunus in New York, but after being accused in the attack case, he is now on the run.

ড. ইউনূসকে হেনস্তা করতে নিউইয়র্কে ঘাঁটি গেড়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা নিঝুম মজুমদার। কিন্তু হামলার মামলায় অভিযুক্ত হয়ে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ছক কষেছিলেন আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতা নিঝুম মজুমদার। বিভিন্ন দেশ থেকে নেতাকর্মী জড়ো করে তিনি নিউইয়র্কে অবস্থান নেন এবং পরিকল্পনা করেন আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনীতিবিদদের ওপর হামলার। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে যায়। হামলার মামলায় তার নাম উঠে আসে, আর এখন তিনি আত্মগোপনে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

বাংলাদেশি ও প্রবাসী রাজনৈতিক মহল, এমনকি নিউইয়র্কে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলে জানা যায়, নিঝুম মজুমদার হামলার ঘটনার নেতৃত্ব দিলেও বর্তমানে ঠিকানা পরিবর্তন করে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে তাকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যেই বিভক্তি তৈরি হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, শেখ হাসিনা ভারতের আশ্রয়ে থেকে যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন এবং ড. ইউনূস ও তার সফরসঙ্গীদের ওপর হামলার নির্দেশ দিতেন। তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়ও অর্থের যোগান দিয়ে হামলার পরিকল্পনাকে কার্যকর করার তাগিদ দেন। নিঝুম মজুমদার সেই বিশেষ নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য নিউইয়র্কে অবস্থান করেন এবং ম্যানহাটনের একটি হোটেলে বসেই সমন্বয় করেন হামলার ছক।

২৫ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে হামলার ঘটনায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় তাকে। ওই হোটেলেই অবস্থান করছিলেন ড. ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক নেতারা। পরবর্তীতে এনসিপি নেতা আখতার হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন, যেখানে ভিডিও ফুটেজসহ নিঝুম মজুমদারের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ দেওয়া হয়।

২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে সমাবেশে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি নেতাকর্মীরা ব্যাপক সংখ্যায় জড়ো হলে আওয়ামী লীগ পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ফলে পরিকল্পিত হামলা ও বিশৃঙ্খলা সত্ত্বেও ড. ইউনূস নিরাপদে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে সক্ষম হন। ওইদিন আওয়ামী লীগের সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা নাজেহাল হন এবং বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ নজিরবিহীন সন্ত্রাস চালিয়েছে, যার সব প্রমাণ মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা স্বীকার করেছেন যে, জাতিসংঘের সামনে প্রচারণা চালানো এবং মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু হামলার ঘটনায় মামলায় জড়িয়ে পড়ায় এখন কার্যত ভেঙে পড়েছে তাদের সব উদ্যোগ। নিঝুম মজুমদারকে আর প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না, বরং তিনি আত্মগোপনে থেকে সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এছাড়াও ভারতীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিতর্কিত দাবি করেন যে, শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে প্রায় দশ লাখ হিন্দু ভারতে পালিয়ে গেছে। এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

বর্তমানে নিঝুম মজুমদার মামলার আসামি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার এই বিপাকে পড়া শুধু ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, বরং প্রবাসী আওয়ামী লীগের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা।

Ingen kommentarer fundet


News Card Generator