আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে দেশের সব এসপি ও ওসিদের লটারির মাধ্যমে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত জনসমক্ষে বাস্তবায়ন করা হবে।
দেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্বাচনের আগে সব জেলা ও থানার পুলিশ সুপার (এসপি) এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদে থাকা কর্মকর্তাদের লটারির মাধ্যমে বদলি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আজ বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচন যেন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সেজন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এসপি ও ওসিদের লটারির মাধ্যমে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে আসন্ন নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপদেষ্টা বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা গতকাল জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জানিয়ে দিয়েছেন যে নির্বাচন প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
তিনি বলেন, নির্বাচনকালে ডিসি, এসপি, ইউএনও এবং ওসির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে দেখা গেছে, রাজনৈতিক প্রার্থীরা তাদের এলাকায় পছন্দের কর্মকর্তাদের রাখতে চায়। এমন পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা আনতেই এবার সবার সামনে গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে লটারি পদ্ধতিতে কর্মকর্তাদের পোস্টিং দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, এই লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে এসপি ও ওসিদের নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হবে এবং তা নির্বাচন শুরুর আগেই বাস্তবায়ন করা হবে। “নির্বাচনের আগে সব এসপি ও ওসিকে অবশ্যই নতুন জায়গায় বদলি হতে হবে এবং সেটা হবে সম্পূর্ণ লটারির ভিত্তিতে,” — বলেন উপদেষ্টা।
এই পদক্ষেপের ফলে প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকেও অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
অবশেষে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান যে এই উদ্যোগে জনগণের আস্থা ফিরবে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনগুলোতে নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।