বারহাট্টায় অপারেশন দ্বারা হিজড়া রূপান্তর: চাঁদাবাজির অভিযোগে তোলপাড়.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বারহাট্টায় অপারেশন দ্বারা হিজড়া রূপান্তর: চাঁদাবাজির অভিযোগে তোলপাড়..

Md MR Uzzal avatar   
Md MR Uzzal
বারহাট্টায় অপারেশন দ্বারা হিজড়া রূপান্তর: চাঁদাবাজির অভিযোগে তোলপাড়..
বারহাট্টায় অপারেশন দ্বারা হিজড়া রূপান্তর: চাঁদাবাজির অভিযোগে তোলপাড়..
ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনার বারহাট্টায় কথিত অপারেশনের মাধ্যমে পুরুষাঙ্গ কেটে হিজড়ায় রূপান্তর এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের নিরব ভূমিকার অভিযোগ তুলেছেন।..

নেত্রকোনার বারহাট্টায় কথিত অপারেশনের মাধ্যমে পুরুষদের হিজড়ায় রূপান্তর করার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লতা ওরফে তাজু, সানি ওরফে কমলা, এবং মেহেদী আক্তার সানা ওরফে স্বর্ণা। একাধিক ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, তাদের পুরুষাঙ্গ এবং অণ্ডকোষ কেটে ফেলা হয়েছে এবং পরবর্তীতে চাঁদাবাজি করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী নয়ন ওরফে অন্তরা জানান, তাকে বেড়ানোর কথা বলে নেত্রকোনার মদনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অজ্ঞান অবস্থায় তার উপর অপারেশন করা হয়। জ্ঞান ফেরার পর তিনি বুঝতে পারেন তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে। নয়ন বলেন, "তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে আমি এটার প্রতিবাদ করি। কিন্তুু তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আমার বাড়ি ফেলে যায়।"

অন্য এক ভুক্তভোগী মালতি ওরফে সুমন জানান, তাকে প্রলোভন দেখিয়ে লতা ও স্বর্ণা হিজড়া বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতো। একদিন মদনে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করা হয়। "জ্ঞান ফিরলে দেখতে পাই, আমাদের গোপনাঙ্গ কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নাক ও কান ফোড়ানো হয়েছে," বলেন মালতি।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলার প্রধান হিজড়ার দায়িত্বে থাকা লতার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, স্বর্ণা হিজড়া, যিনি অপারেশন নিজ হাতে করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, সাংবাদিক শুনেই ফোন কেটে দেন।

বারহাট্টা থানার অফিসার ইন চার্জ মোঃ কামরুল হাসান জানান, "পুরুষাঙ্গ কেটে হিজড়ায় রূপান্তর করা হয়েছে এমন কোনো অভিযোগ আসেনি। আসলে তদন্তপূর্বক এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এই ঘটনায় সমাজে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের নিরব ভূমিকার অভিযোগ তুলেছেন এবং ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। তারা এই অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কার্যকলাপ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিকর। এই ধরনের অপারেশন বিপজ্জনক এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বহন করে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।

ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধ করার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এছাড়া, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে সঠিক আইনি সহায়তা এবং পুনর্বাসন প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে।

没有找到评论


News Card Generator