শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:
নারী শিক্ষার গুরুত্ব আজকের সমাজে অপরিসীম, কারণ একটি শিক্ষিত নারী শুধুমাত্র নিজেকে নয়, বরং একটি পুরো পরিবার, কমিউনিটি ও জাতিকে আলোকিত করতে পারে। এ কারণে নারী শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। শিক্ষিত জাতি গড়তে হলে বাল্যবিবাহকে চিরতরে নির্মূল করতে হবে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই '২৫) সাতক্ষীরায় ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনাল অনলুস-এর "আমার সোনার পরিবারের" ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এই মতামত ব্যক্ত করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ মানেই প্রতিভার পতন। এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় অভিশাপ। এই অভিশাপ থেকে মুক্তির উপায় হলো সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীর প্রতি সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা। বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে পাড়ায়-পাড়ায় শক্তিশালী ব্রিগেড গঠন করার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঋশিল্পীর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সৈয়দ মোঃ খালেদ, ইটালিয়ান অতিথি লারা, ইলিনিয়া, অরোরা, জুলিয়া, প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সেলিমুল ইসলাম, প্রোজেক্ট ম্যানেজার সনোজ কুমার বসু সহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেখানে ঋশিল্পীর মনিরুজ্জামান মনি, দুখীরাম মন্ডল এবং শিক্ষার্থী প্রতীক্ষা ও সামারা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। এছাড়া ২০ জন ১৮ ঊর্ধ্ব শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ৮ হাজার টাকা করে মোট এক লক্ষ ৬০ হাজার টাকার সহায়তা প্রদান করা হয়।
এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষার প্রসারকে ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করেন উপস্থিত বক্তারা। তারা উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার মাধ্যমে নারীরা কেবল নিজেদের জীবনমান উন্নয়ন করতে সক্ষম হবেন না, বরং সমাজের বিভিন্ন স্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন।
নারী শিক্ষার প্রসার ও বাল্যবিবাহ নির্মূলের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও শিক্ষিত জাতি গঠনে এই ধরনের অনুষ্ঠান ও উদ্যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। বক্তারা এ বিষয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।