বিএনপির সিনিয়র নেতা মুশফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের স্থিতিশীলতার জন্য জনগণের ভোটে প্রতিনিধিত্ব হওয়া জরুরি। পিআর পদ্ধতি জনগণের রায় বিকৃত করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিএনপি কখনোই পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতির নির্বাচন মেনে নেবে না। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে কসবায় উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
মুশফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে একটি মহল দেশে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারা নানা পন্থায় অরাজকতা সৃষ্টি করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে। কিন্তু জনগণ সজাগ রয়েছে, এবং বিএনপি সতর্ক রয়েছে। আমরা একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই, যা দেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন, পিআর পদ্ধতির নির্বাচন এ দেশে কখনো কার্যকর হবে না। এতে সরকার অস্থায়ী হয়ে পড়ে, স্থায়িত্ব হারায়। ৩০টি দল ৩০ রকমের প্রার্থী দেবে, যার ফলে কোনো দলই পূর্ণ জনসমর্থন পাবে না। এতে করে গণতন্ত্র দুর্বল হয়। বিএনপি চায় সরাসরি ভোটে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত হোক। পিআর পদ্ধতি জনগণের রায়কে বিভক্ত করে দেয়।
ভারতের প্রসঙ্গে মুশফিক বলেন, ভারত আমাদের প্রকৃত কল্যাণ চায় না। আমাদের নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই গড়তে হবে। সত্যিকারের পরিবর্তন ও মঙ্গলের জন্য প্রয়োজন একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন। ইনশাআল্লাহ সেই নির্বাচন হবে, জনগণ অংশ নেবে, এবং বিজয়ী দল সরকার গঠন করবে।
দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদের বিষয়ে বিএনপির প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, "গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য এটা সময়ের দাবি। একটি দায়িত্বশীল এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সংসদ চাই আমরা। আমরা চাচ্ছি দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করুক, এবং তা নির্বাচনের মাধ্যমেই সম্ভব।"
সভায় সভাপতিত্ব করেন কসবা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কসবা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. ইলিয়াস। এ সময় জেলা বিএনপির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক প্রকৌশলী নাজমুল হুদা খন্দকার, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন, সদস্য বিল্লাল খন্দকারসহ আরও অনেকে।
এ জনসভায় বক্তারা সরকারের নির্বাচনী কৌশল, গণতন্ত্র ধ্বংসের অপচেষ্টা এবং জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।