রিপোর্টার: শামসু উদ্দিন
বর্তমান যুগ প্রযুক্তিনির্ভর হলেও মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার সমাজে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থী সমাজ মোবাইল আসক্তির শিকার হয়ে পড়ছে। পড়াশোনা, পারিবারিক সম্পর্ক, নৈতিকতা এবং মানসিক স্থিতিশীলতা—সবই আজ হুমকির মুখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল ফোনের ‘অপব্যবহার’ আজকাল পড়াশোনার সবচেয়ে বড় শত্রুতে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন বইয়ের বদলে অধিকাংশ সময় ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, পাবজি কিংবা ফ্রি ফায়ার–এর মতো অ্যাপেই কাটায়। এতে মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে তারা, পড়াশোনায় আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ হচ্ছে।
শুধু পড়াশোনাই নয়, মোবাইলের কারণে মানুষের চিন্তাশক্তি, ধৈর্য ও বাস্তব যোগাযোগের দক্ষতা কমে যাচ্ছে। পরিবারে সন্তান-অভিভাবকের বন্ধন দুর্বল হচ্ছে। ছোটখাটো ভুলে অনেকেই আবেগে বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যার ফল হচ্ছে আত্মহত্যা, সহিংসতা কিংবা মানসিক রোগ।
একাধিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, দিনে ৬-৭ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন টাইম মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়। ঘুম কমে যায়, মাথাব্যথা, চোখের সমস্যা ও ডিপ্রেশন বাড়ে।
এই বিপজ্জনক বাস্তবতায় এখনই প্রয়োজন সচেতনতা। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কঠোরভাবে মোবাইলের অপব্যবহার রোধে উদ্যোগ নিতে হবে। না হলে খুব শিগগিরই একটি প্রজন্ম ধ্বংসের পথে চলে যাবে।