কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাদক সেবনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড পাওয়ার পরপরই উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুল হাই কায়সারকে (৫০) দলীয় পদসহ প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। গত মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। মূলত উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে শ্রীপুর গ্রামের একটি মুরগির খামারে অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনরত অবস্থায় কায়সারসহ তিনজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের প্রত্যেককে সাত দিনের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ১৪ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালত সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ স্থানীয় রাজনীতি ও জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত আব্দুল হাই কায়সারের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকা একজন নেতার এহেন কর্মকাণ্ডে সংগঠনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, কারণ দায়িত্বশীল পদে থেকে মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে প্রভাবশালীরা প্রায়ই এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকে, যা সমাজ ও যুবসমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই রায় কেবল একজন ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত করেনি, বরং মাঠ পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কায়সারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের এই দৃঢ় অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো ধরনের ব্যক্তিগত অপকর্মের দায়ভার দল বহন করবে না। একই সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কায়সারের সঙ্গে সব ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধী যেই হোক, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। দলীয় নেতৃত্বের এমন ত্বরিত সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বার্তা দিয়েছে যে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে দলীয় পদের সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়।
এই বহিষ্কারাদেশের মাধ্যমে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযানের বার্তাটি আরও জোরালো করল। রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে এ ধরনের কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখা অপরিহার্য, বিশেষ করে যখন কোনো নেতা সরাসরি ফৌজদারি অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। আব্দুল হাই কায়সারের এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত তাদের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো, যাতে সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে কেউ মাদকের মতো ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হতে না পারে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে, অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।