নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় 'ডেভিল হান্ট' অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশের পৃথক অভিযানে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাতে পূর্বধলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. হাবিবুল্লাহ টুটুল (৪৯), মো. সাব্বির আহমেদ খান রাজু (৩৫), এবং মো. মানিক মিয়া (৩৯)।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরুল আলম জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা পূর্বধলা থানায় দায়েরকৃত বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলার সন্দেহভাজন আসামি ছিলেন। মামলাটি দায়ের হয়েছিল ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর এবং এর নম্বর ০১। তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯০৮ সালের ৩/৪/৬ ধারা এবং দণ্ডবিধি ১৪৩/৩২৩/১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, 'আজ শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের নেত্রকোনা আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।' এই অভিযানের ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এই গ্রেপ্তারকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন, আবার কেউ বলছেন এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভিযান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা প্রকাশ করে। তবে সুষ্ঠু বিচারের জন্য গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান 'ডেভিল হান্ট' অভিযান মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে এই অভিযানের মাধ্যমে নিরীহ কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন মহলের দাবি, এ ধরনের অভিযানে যেন কোনো নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হয়। তারা আরও বলেন, 'আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা সবসময়ই পুলিশের পাশে আছি, তবে সঠিক তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।'
অভিযান ও গ্রেপ্তারের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে জেলে থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তারকৃতদের আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকার আছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।