কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বাতাকান্দি বাজারের উত্তর দিকে হোমনা মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জমি অবৈধভাবে দখল করে বালু ভরাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সওজ বিভাগের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও একাধিকবার বাধা দেওয়ার পরও ওই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বালু ভরাট করে দখল নেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় গতকাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে তিতাস থানায় বালু ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, সওজ বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে কাজ বন্ধ করতে মৌখিক নির্দেশ দিলেও সিন্ডিকেটের সদস্যরা তা অমান্য করে বালু ভরাট অব্যাহত রাখে। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের নির্দেশ বাস্তবায়নে গেলে হামলার শিকার হয়েছেন সরকারি কর্মচারীরাও।
জানা গেছে, তিতাস উপজেলা ভূমি অফিসের নির্দেশে বলরামপুর ইউনিয়ন তহসিল অফিসের সহকারী আল-আমিন এবং সাতানী ইউনিয়ন তহসিল অফিসের নায়েব সহকারী মাহাবুব ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু ভরাট বন্ধের অনুরোধ জানান। এ সময় সিন্ডিকেটের সদস্যরা অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। প্রাণ ভয়ে তারা কোনো রকমে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, কারা এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত এবং কীভাবে তারা প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে সড়ক জনপথের সরকারি জমিতে বালু ভরাট করছে?
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে বালু ভরাট বন্ধ করে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আরএসএ মূলে দুইজন নারী ৪৯ নম্বর দাগে ৪৬ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে টাকা উত্তোলন করেন। তাদের একজন আউয়ালের নেছা এবং অন্যজন কাবিরের নেছা। ওয়ারিশ সূত্রে মনির ও হক সাব নামের দুই ব্যক্তি নিজেদের আরএসএ মালিক আউয়ালের নেছার ওয়ারিশ দাবি করে বলেন, তারা বৈধভাবে জমির ভোগদখলে রয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, যারা বর্তমানে বালু ভরাট করছে তারা কীভাবে এবং কোন সূত্রে জমির ওয়ারিশ দাবি করছে তা তারা জানেন না।
এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
যারা বালু ভরাটে সম্পৃক্ত তাদের মধ্যে প্রবাসি জহিরুল ইসলাম বলেন, আমরা স্ট্যাম্পের মাধ্যমে দখল ক্রয় করে মালিক হয়েছি। কাগজ নিয়ে বসতে বলেন, যাদের কাগজ সঠিক তারা জায়গা ভোগ দখল করবে।



















