দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। ২০২১–২২ অর্থবছরের পর এই প্রথম রিজার্ভ এই পর্যায়ে পৌঁছাল, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি স্বস্তির খবর।
রিজার্ভের বর্তমান অবস্থা:
-
মোট রিজার্ভ: ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
-
ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ: আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৮.৫১ বিলিয়ন ডলারে।
-
আমদানি সক্ষমতা: বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে ৫ মাসেরও বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
নেপথ্যের কারণসমূহ: ১. রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি: গত বছরের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্স আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়ে ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
২. ডলার ক্রয় নীতি: টাকার মান ধরে রাখতে আগে ডলার বিক্রি করা হলেও, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনা শুরু করে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে, যা রিজার্ভ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।
৩. রপ্তানি আয় ও আমদানি নিয়ন্ত্রণ: রপ্তানি আয় কিছুটা বাড়ার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রিত থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমেছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের আগস্টে রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও পরবর্তীতে তা কমতে শুরু করে এবং ২০২৪ সালের মে মাসে ২৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। তবে বর্তমান উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের বৈদেশিক লেনদেনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।



















