close

ভিডিও দেখুন, পয়েন্ট জিতুন!

তারুণ্য ও আদর্শের মেলবন্ধন, নতুন মন্ত্রিসভায় এক প্রজ্ঞাবান অভিভাবক হিসেবে জোনায়েদ সাকি..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
মেহনতি মানুষ, শ্রমিক এবং কৃষকদের অধিকার নিয়ে তার স্বচ্ছ চিন্তাধারা তাকে দেশের বুদ্ধিজীবী ও তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।..

বিকেলের পড়ন্ত রোদে যখন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথ পড়াচ্ছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত জনতা ও টেলিভিশনের সামনে থাকা লাখো মানুষের দৃষ্টি ছিল জোনায়েদ সাকির দিকে। এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা, বামপন্থী আন্দোলনের রূপকার এবং 'গণসংহতি আন্দোলন'-এর প্রধান সমন্বয়কারী আজ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে এক নতুন ইতিহাসের অংশ হলেন।

জোনায়েদ সাকির রাজনৈতিক জীবনের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল নব্বইয়ের দশকের ছাত্র আন্দোলনে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সামনের সারিতে ছিলেন। বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী সাকি কখনোই ক্ষমতার মোহ বা ব্যক্তিস্বার্থের কাছে মাথা নত করেননি। তার রাজনীতি ছিল শোষিত মানুষের পক্ষে এবং একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে।

ছাত্রজীবন শেষে তিনি কেবল গতানুগতিক রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকেননি। ২০০২ সালে তিনি 'গণসংহতি আন্দোলন' গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশে দ্বিদলীয় বৃত্তের বাইরে একটি শক্তিশালী বিকল্প রাজনৈতিক ধারা তৈরি করার জন্য তিনি গত দুই দশক ধরে নিরলস কাজ করেছেন। মেহনতি মানুষ, শ্রমিক এবং কৃষকদের অধিকার নিয়ে তার স্বচ্ছ চিন্তাধারা তাকে দেশের বুদ্ধিজীবী ও তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

জোনায়েদ সাকি মানেই রাজপথের পরিচিত মুখ। প্রতিটি আন্দোলনে তাকে সামনের সারিতে দেখা গেছে। পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল আর অগণিত হামলা-মামলা তাকে তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও কৌশলগত অবস্থান আন্দোলনকে বেগবান করতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে তার যৌক্তিক ও সাহসী বক্তব্য সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই নতুন মন্ত্রিসভায় জোনায়েদ সাকির অন্তর্ভুক্তি একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর এই বহরে সাকির মতো একজন প্রজ্ঞাবান ও আদর্শিক নেতার উপস্থিতি রাষ্ট্র সংস্কারের কাজকে আরও গতিশীল করবে বলে বিশ্বাস করা হয়।

কেন জোনায়েদ সাকি অনন্য?

  • আদর্শিক অটলতা: দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি তার রাজনৈতিক আদর্শে অবিচল ছিলেন, যা বর্তমান রাজনীতিতে বিরল।

  • বিচক্ষণ নীতিনির্ধারক: দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে তার রয়েছে গভীর পাণ্ডিত্য ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা।

  • পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি: তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবন নিয়ে কখনো কোনো দুর্নীতির বা অনৈতিকতার অভিযোগ ওঠেনি।

জোনায়েদ সাকির মতো একজন নেতার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। সাধারণ মানুষ আশা করে, রাজপথে যেভাবে তিনি মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও তিনি একইভাবে জনকল্যাণমূলক কাজ করবেন। তার হাত ধরে বাংলাদেশে এক নতুন গণতান্ত্রিক ও মানবিক শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠবে—এটিই আজ সারা দেশের প্রত্যাশা।

শুভেচ্ছা জোনায়েদ সাকি। আপনার মেধা ও আদর্শের আলোয় আলোকিত হোক নতুন বাংলাদেশ।


আবদুল্লাহ আল মামুন, আই নিউজ বিডি

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator