দাম্পত্য জীবন বিচ্ছেদ বা তালাকের মতো এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলেও, সম্পর্কটি সম্পূর্ণভাবে ছিন্ন হওয়ার আগে ইসলামে একাধিকবার সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। আবেগের বশে বা ক্ষণিকের ভুলে দেওয়া তালাকের পর অনুতপ্ত স্বামী-স্ত্রী কীভাবে শরিয়তসম্মত উপায়ে পুনরায় দাম্পত্য জীবনে ফিরতে পারেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত বিধান রয়েছে। এই বিধান জানা থাকলে অনেক পরিবারই চূড়ান্ত ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে পারে।
ইসলামে তালাককে মূলত তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রতিটি ভাগের জন্য স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার পদ্ধতি ভিন্ন। প্রথমত, তালাকে রাজয়ি (প্রথম বা দ্বিতীয় তালাক)। এই তালাকটি হলো সবচেয়ে নমনীয়, যেখানে ইদ্দতকাল (প্রতীক্ষার সময়) শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয় না। এ অবস্থায় স্বামী মৌখিক ঘোষণার মাধ্যমে ('আমি তোমাকে ফিরিয়ে নিলাম') অথবা কার্যত (সহবাসের মাধ্যমে) স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে নতুন করে বিয়ে বা স্ত্রীর সম্মতির প্রয়োজন হয় না।
দ্বিতীয়ত, তালাকে বাইন বা হালকা বাইন। শর্তযুক্ত তালাক কিংবা খোলার মাধ্যমে তালাক দিলে এই বিধান কার্যকর হয়। এই ধরনের তালাকের ক্ষেত্রে সম্পর্ক তাৎক্ষণিক বিচ্ছিন্ন হলেও, প্রথম বা দ্বিতীয় তালাকের পর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে চাইলে ইদ্দতের মধ্যে বা পরে নতুন করে দেনমোহর নির্ধারণ করে বৈধভাবে বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। এটিও ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানোর একটি হালাল উপায়।
সর্বশেষ এবং সবচেয়ে কঠোর হলো তালাকে মুগাল্লাজা বা তৃতীয় তালাক। একসঙ্গে তিন তালাক দেওয়া হলে এটি কার্যকর হয়, যেখানে সরাসরি রুজু বা নতুন করে বিয়ের কোনো সুযোগ থাকে না। এই ক্ষেত্রে স্ত্রীকে কেবল 'হিল্লা'র মাধ্যমে প্রথম স্বামীর কাছে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। হিল্লার শরিয়তসম্মত পদ্ধতি হলো: স্ত্রী একজন নতুন পুরুষকে বৈধভাবে বিয়ে করবেন, তাদের মধ্যে স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত হবে এবং সেই স্বামী যদি মারা যান বা স্ত্রীকে তালাক দেন, তবেই ইদ্দত শেষে প্রথম স্বামীর জন্য নতুন বিয়ের মাধ্যমে স্ত্রীকে গ্রহণ করা হালাল হবে। তবে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হিল্লা করা ইসলামে ঘৃণিত ও হারাম।
পবিত্র কোরআনেও তালাকপ্রাপ্তা নারীদের ইদ্দতকাল এবং রুজু করার অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে (সুরা বাকারা: আয়াত ২২৮)। এই বিধানগুলো প্রমাণ করে, পরিবারকে রক্ষা করতে এবং ভালোবাসাকে দ্বিতীয় সুযোগ দিতে ইসলাম সবসময় উৎসাহ দেয়।



















