রাজনীতিতে কিছু কিছু মুহূর্ত আসে যা একটি জাতির ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আজ ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫—দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে তেমনই এক সন্ধিক্ষণ হিসেবে লেখা থাকবে। একদিকে আমরা যখন ‘গণতন্ত্রের মা’ বেগম খালেদা জিয়াকে অশ্রুসজল বিদায় জানাচ্ছি, ঠিক তখনই জাতীয় সংসদ ভবনের একটি কক্ষে রচিত হলো আগামীর স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাক্ষাৎ এবং সেই সাক্ষাতের শরীরী ভাষা (Body Language) আমাদের একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে বিগত দেড় দশকের ‘নতজানু’ পররাষ্ট্রনীতির দিন শেষ। এবার মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর পালা।
দিল্লির বোধদয় ও জনসমুদ্রের বার্তা কেন এস জয়শঙ্কর ছুটে এলেন তারেক রহমানের কাছে? এর উত্তর লুকিয়ে আছে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের জনসমুদ্রে। ৪৪ বছর আগে জিয়াউর রহমানের জানাজায় যে জনস্রোত দেখেছিল বিশ্ব, আজ বেগম জিয়ার বিদায়ে সেই একই দৃশ্য দেখে দিল্লি বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের নাড়ি কাদের হাতে। তারা উপলব্ধি করেছে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখে বাংলাদেশের মানুষের মন জয় করা সম্ভব নয়। লাখো জনতার এই ঢল আদতে তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি এক বিশাল ‘গণভোট’। তাই বাস্তবতা মেনেই ভারত আজ হাত বাড়িয়েছে তারেক রহমানের দিকে।
গোলামি নয়, সমমর্যাদার বন্ধুত্ব প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তারেক রহমানের হাতে শোকবার্তা তুলে দিচ্ছেন। আর তারেক রহমান? মেরুদণ্ড সোজা রেখে, চোখে চোখ রেখে, একজন রাষ্ট্রনায়কের গাম্ভীর্য নিয়ে তা গ্রহণ করছেন। এই ছবিটিই বলে দেয়, আগামীর বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায়।
আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা কোনো দেশের শত্রু হতে চাই না, কিন্তু আমরা কারো ‘করদ রাজ্য’ বা ‘আশ্রিত’ হতেও রাজি নই। বিগত দিনে আমরা দেখেছি কীভাবে জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ‘দাদাগিরি’ মেনে নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত হত্যা, তিস্তার পানি বণ্টন কিংবা বাণিজ্য ঘাটতি সবকিছুতেই ছিল একপেশে নীতি। কিন্তু তারেক রহমানের দর্শন পরিষ্কার সম্পর্ক হবে বন্ধুত্বের, কিন্তু তা হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে (Relationship of Equality)।
আগামীর বাংলাদেশ: ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ তারেক রহমান প্রমাণ করেছেন, তিনি বিদেশের মাটিতে থেকেও দেশের মানুষের পালস বোঝেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এমন এক পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করবে যেখানে সবার আগে থাকবে ‘বাংলাদেশের স্বার্থ’ (Bangladesh First Policy)।
১. সার্বভৌমত্ব: আমাদের সীমানায় ফেলানীর মতো আর কোনো লাশ ঝুলবে না এই প্রতিশ্রুতি আদায়ে তারেক রহমান যে আপসহীন থাকবেন, আজকের সাক্ষাৎ তার ইঙ্গিত।
২. প্রভুত্ব নয়, বন্ধুত্ব: আমরা ভারতকে প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবেই দেখতে চাই। কিন্তু সেই বন্ধুত্বে কোনো ‘তাবেদারি’ বা ‘গোলামি’র স্থান থাকবে না।
৩. নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব: ছবিতে তারেক রহমানের পাশে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের উপস্থিতি আমাদের আশান্বিত করে। তিনি আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা রাখেন। এটি তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রমাণ।
আজকের এই দিনে দাঁড়িয়ে একজন সাংবাদিক ও লেখক হিসেবে আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে পারি, অন্ধকার কেটে গেছে। বেগম খালেদা জিয়া আমাদের শিখিয়ে গেছেন কীভাবে আপসহীন থাকতে হয়, আর তারেক রহমান দেখাচ্ছেন কীভাবে মাথা উঁচু করে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়াতে হয়।
এস জয়শঙ্করের এই সফর এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এই বৈঠক প্রমাণ করে আগামীর বাংলাদেশ আর কারো ইশারায় চলবে না। তারেক রহমানের হাত ধরেই উদিত হচ্ছে এক নতুন সূর্য, যেখানে বাংলাদেশ হবে গর্বিত, স্বাধীন এবং বিশ্ব দরবারে এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।
গোলামির জিঞ্জির ভেঙে আমরা এখন মুক্ত। আগামীর বাংলাদেশ তারেক রহমানের বাংলাদেশ।



















