close

কমেন্ট করুন পয়েন্ট জিতুন!

‎সুন্দরবনে দুই মাস কাকড়া ধরায় নিষেধাজ্ঞা

ম.ম.রবি ডাকুয়া avatar   
ম.ম.রবি ডাকুয়া
‎মোংলা প্রতিনিধিঃ

‎সুন্দরবনে দুই মাসের জন্য কাঁকড়া আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
‎সুন্দরবনের নদী–খালে কাঁকড়ার প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে দুই মাসের জন্য কাঁকড..

এ সময় কাঁকড়া ধরার অনুমতিপত্র ইস্যু বন্ধ থাকায় গভীর বনাঞ্চলে অবস্থান করা জেলেরা লোকালয়ে ফিরে এসেছেন।

‎বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) তারিখ থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।

‎কাঁকড়ার প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বনবিভাগের পক্ষ থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে বলে জানান সকল ষ্টেশন কর্মকর্তারা।তারা আরো বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও কাঁকড়ার প্রাকৃতিক উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ সময়ে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে কাঁকড়া ধরা, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

‎পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) জানান, প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া রক্ষা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‎তিনি বলেন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এ দুই মাস সুন্দরবনের নদী-খালে কাঁকড়া ডিম পাড়ে। এ সময়কালে কাঁকড়ার প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

‎এছাড়া কাঁকড়ার যখন ডিম হয়, তখন কাঁকড়া ধরা খুবই সহজ হয়ে থাকে। কারণ এ সময়ে কাঁকড়া খুব ক্ষুধার্ত থাকে। এদের সামনে যে খাবার দেওয়া হয়, তাই খাওয়ার জন্য দ্রুত এগিয়ে আসে। যদি এ সময় কাঁকড়া শিকার না করা হয়, তাহলে পরের বছর বেশি কাঁকড়া উৎপাদন সম্ভব। কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুমকে ঘিরে সুন্দরবনে বনরক্ষীদের টহল জোরদার করা হয়েছে।

‎এদিকে, নিষেধাজ্ঞা সামনে রেখে কয়েক দিন ধরে গহীন সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে ফিরেছেন উপকূলীয় অঞ্চলের কাঁকড়া ধরার জেলেরা। তবে এই দুই মাস সংসার কিভাবে চলবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মোংলা উপজেলা ও আশপাশের ইউনিয়নের বাসিন্দা কাঁকড়া ধরার জেলেরা।

‎তারা বলেন, বন্ধের দিনগুলোয় তাদের জন্য সরকারি কোনো ভাতার ব্যবস্থা না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করতে হবে।

‎নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বন আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে বনবিভাগের টহল জোরদার করা হয়েছে।

‎স্থানীয় জেলে ও কাঁকড়া আহরণকারীরা জানান, নিষেধাজ্ঞা সাময়িক কষ্টের হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি সুন্দরবনের কাঁকড়া সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

‎বনবিভাগের পক্ষ থেকে সকলের সহযোগিতায় নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।

Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator