বিকেলের পড়ন্ত রোদে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যখন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলছিল, তখন সবার নজর কেড়েছেন একজন দীর্ঘকায়, সুশ্রী ও সুবক্তা ব্যক্তিত্ব। তিনি ববি হাজ্জাজ যিনি একাধারে একজন একাডেমিশিয়ান, গবেষক এবং রাজনৈতিক দল ‘এনডিএম’ (জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। আজ তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন মিশনে যুক্ত হলেন।
শিক্ষা ও আভিজাত্যের পটভূমি ববি হাজ্জাজের রাজনৈতিক জীবনের শুরুটা অন্য অনেকের মতো প্রথাগত ছিল না। বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে তিনি যখন দেশে ফেরেন, তখন তার সামনে ছিল কর্পোরেট জগত বা শিক্ষকতার উজ্জ্বল ক্যারিয়ার। কিন্তু দেশের প্রতি টান এবং প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুণগত পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তাকে রাজনীতিতে টেনে আনে। অত্যন্ত ধনাঢ্য ও অভিজাত পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তিনি সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা বলতে রাজপথকে বেছে নেন।
জাতীয় রাজনীতিতে আগমন ও এনডিএম গঠন ববি হাজ্জাজ প্রথম আলোচনায় আসেন দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দলের বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে। তবে আপসহীন চেতনা এবং নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শনের কারণে তিনি সেখানে সীমাবদ্ধ থাকেননি। ২০১৭ সালে তিনি ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন’ (এনডিএম) প্রতিষ্ঠা করেন। "জবাবদিহিতামূলক গণতন্ত্র" এবং "জনগণের ক্ষমতায়ন"—এই স্লোগান নিয়ে তিনি দেশের শিক্ষিত তরুণ সমাজকে রাজনীতিতে আগ্রহী করে তোলেন। তার মার্জিত ভাষা এবং যুক্তিনির্ভর বক্তব্য খুব দ্রুতই তাকে টকশো এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এক পরিচিত মুখ করে তোলে।
লড়াই ও সংগ্রামের ময়দানে ববি হাজ্জাজের পথচলা সবসময়ই ছিল স্রোতের বিপরীতে। বড় দুটি জোটের বাইরে থেকে নিজের দলের নিবন্ধন পাওয়া এবং একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করতে তাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার দল এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার জোরালো অবস্থান এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সংকট তুলে ধরার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
নতুন মন্ত্রিসভায় ববি হাজ্জাজ: মেধার মূল্যায়ন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই নতুন মন্ত্রিসভায় ববি হাজ্জাজের অন্তর্ভুক্তিকে দেখা হচ্ছে "রাইট পারসন ইন দ্য রাইট প্লেস" হিসেবে। ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর এই তালিকায় তার মতো একজন উচ্চশিক্ষিত ও আধুনিক মনস্ক মানুষের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।
কেন তিনি বর্তমান সময়ের অপরিহার্য নেতা?
উচ্চশিক্ষা ও প্রজ্ঞা: অক্সফোর্ডের ডিগ্রি এবং বৈশ্বিক রাজনীতি সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বড় অবদান রাখবে।
আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি: তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে ‘স্মার্ট ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ’ গড়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
পরিচ্ছন্ন ইমেজ: তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার দুর্নীতি বা পেশিশক্তির রাজনীতির অভিযোগ নেই, যা তাকে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
আগামীর প্রত্যাশা ববি হাজ্জাজের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ এটিই প্রমাণ করে যে, নতুন বাংলাদেশে মেধা ও যোগ্যতার কদর বাড়ছে। রাজপথের লড়াই আর মেধার মেলবন্ধনে তিনি যেভাবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন, তাতে দেশবাসী আশা করে—মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনেও তিনি সফল হবেন। তার হাত ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন রুচিশীল ও বৈজ্ঞানিক ধারার সূচনা হবে, এটাই আজ সবার প্রত্যাশা।
শুভেচ্ছা ববি হাজ্জাজ। আপনার হাত ধরে এগিয়ে যাক স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ।
আবদুল্লাহ আল মামুন, আই নিউজ বিডি



















