close

লাইক দিন পয়েন্ট জিতুন!

পৃথিবীর সবচেয়ে বিষণ্ণ দ্বীপে নিষিদ্ধ জন্ম ও মৃত্যু

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
জনজীবনের নিরাপত্তার জন্য এখানে কঠোর আইন ও বিধি মেনে চলতে হয়। এখানকার জীবনকে 'বিচ্ছিন্ন' ও 'কষ্টকর' হিসেবে বর্ণনা করা হয়।..

পৃথিবীর উত্তর মেরুতে অবস্থিত নরওয়ের আর্কটিক অঞ্চল সভালবার্দ (Svalbard) আর্কিপেলাগো বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত জনবসতিগুলির মধ্যে একটি। এই দ্বীপে স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য এক কঠোর আইন প্রচলিত—এখানে কেউ জন্ম নিতে বা মারা যেতে পারবে না। এছাড়া, মাসের পর মাস ধরে রাতের মতো অন্ধকারে ডুবে থাকা এই দ্বীপটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে 'বিষণ্ণ' স্থানগুলির মধ্যে একটি হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

নরওয়েজিয়ান এই দ্বীপটি উত্তর মেরুর কাছে অবস্থিত হলেও, এটিতে বসবাস বা কাজ করার জন্য বিশ্বের প্রায় যেকোনো দেশের নাগরিকের কোনো ভিসার প্রয়োজন হয় না। তবে জনজীবনের নিরাপত্তার জন্য এখানে কঠোর আইন ও বিধি মেনে চলতে হয়। এখানকার জীবনকে 'বিচ্ছিন্ন' ও 'কষ্টকর' হিসেবে বর্ণনা করা হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই আর্কিপেলাগোতে রয়েছে বিশ্বের বিখ্যাত 'ডুমসডে ভল্ট' (Doomsday Vault) বা 'শেষ বিচারের দিনের ভান্ডার', যেখানে বিশ্বের সমস্ত উদ্ভিদের বীজ সংরক্ষণ করা আছে।

জন্ম ও মৃত্যু নিষিদ্ধের কারণ

সভালবার্দের একটি প্রধান আইন হলো, এই দ্বীপে কোনো মানুষের জন্ম দেওয়া বা মারা যাওয়া অনুমোদিত নয়।

  • মৃত্যুর নিষেধাজ্ঞা: মূলত পারমাফ্রস্ট (Permafrost) বা স্থায়ীভাবে জমে থাকা মাটির কারণে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এখানকার মাটি এতটাই ঠান্ডা যে দেহের কোনো পরিবর্তন হয় না। ফলে দেহাবশেষ কবর দেওয়ার পরে পচে না, যার কারণে ভাইরাস বা রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।

  • জন্মের নিষেধাজ্ঞা: দ্বীপটিতে প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সহ পুরোপুরি সজ্জিত হাসপাতাল না থাকার কারণে কোনো নারী সন্তানের জন্ম দিতে চাইলে তাঁকে অবিলম্বে হেলিকপ্টারে করে নরওয়ের নিকটতম শহর ট্রুমসোতে (Tromsø) পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এই দ্বীপপুঞ্জের প্রধান শহর লং ইয়ারবাইনে মাত্র হাজার খানেক মানুষ বসবাস করে। এখানে জীবনের প্রধান হুমকি হলো মেরু ভাল্লুক (Polar Bear), যারা প্রায়শই মানববসতির কাছাকাছি চলে আসে। মেরু ভাল্লুকের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে এখানকার বাসিন্দাদের প্রায় সবার কাছেই বন্দুক রাখা বাধ্যতামূলক। এমনকি অস্ত্রের বিষয়ে বিধিনিষেধ থাকলেও, ভাল্লুকের ভয়ে এখানে বন্দুক নিয়ে ঘোরাফেরার অনুমতি রয়েছে।

এছাড়া, বছরের দীর্ঘ মাস (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) ধরে এই দ্বীপে সূর্য ওঠে না, যা এখানকার জীবনকে আরও কঠিন ও একঘেয়ে করে তোলে। এখানে স্থায়ী বাসিন্দারা প্রায়ই বিষণ্ণতায় ভোগেন, যার কারণে তাঁরা বই পড়া বা কফি শপে একাকী সময় কাটানোর মাধ্যমে ব্যস্ত বিশ্ব থেকে পালিয়ে থাকার চেষ্টা করেন।

সভালবার্দের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হলো 'সভালবার্দ গ্লোবাল সিড ভল্ট' বা 'শেষ বিচারের দিনের ভান্ডার'। এটি বিশ্বের উদ্ভিদ রাজ্যের জন্য একটি 'নিরাপদ ব্যাংক' হিসেবে কাজ করে।

  • এখানে পৃথিবীর সমস্ত উদ্ভিদের বীজ সংরক্ষিত আছে, যেন কোনো বৈশ্বিক যুদ্ধ বা বিপর্যয়ে পৃথিবীর উদ্ভিদকুল ধ্বংস হয়ে গেলেও সেগুলো পুনরুদ্ধার করা যায়। এমনকি উত্তর কোরিয়ার বীজও এখানে রাখা আছে।

  • ২০১৫ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় আলেপ্পোর বীজ ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর, সংরক্ষিত বীজ ভান্ডার ব্যবহার করা হয়েছিল, যা এই ভল্টের অপরিহার্যতা প্রমাণ করে।

সভালবার্দ একসময় প্রধানত কয়লা খনির জন্য পরিচিত ছিল এবং সেখানে রাশিয়ারও উপস্থিতি ছিল। বর্তমানে বেশিরভাগ খনি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এটি মূলত পর্যটন ও গবেষণার ওপর নির্ভরশীল। এখানকার মানুষ প্রধানত নরওয়েজিয়ান তেল ও গ্যাস শিল্প, জাহাজ নির্মাণ এবং মৎস্য শিল্পে কাজ করে। সভালবার্দ চুক্তির কারণে এখানে কাজ করার বা থাকার জন্য ভিসার প্রয়োজন না হওয়ায় বহু সংস্কৃতির মানুষের একটি মিশ্র সমাজ গড়ে উঠেছে।

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator