জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) নেতারা সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ভারতের কৌশলে বাংলাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে জাগপার প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান বলেন, “পাহাড় অশান্ত করে সীমান্ত অরক্ষিত রাখার মাধ্যমে দেশের শান্তি ভাঙতে চাইছে ভারত। তারা জাল নোট বাংলাদেশে প্রবেশ করাচ্ছে এবং যে কোনো মূল্যে দেশের স্বার্থে হস্তক্ষেপ চালাচ্ছে।
ভারত বাংলাদেশকে তাদের করদ রাজ্য বানানোর জন্য প্রবল চেষ্টা করছে। খুনি হাসিনাকে পুনর্বাসন করানোর চেষ্টাও তাদের কৌশলের অংশ।
আসাদুর রহমান খানের মতে, ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার প্রয়োজনে পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে পর্যাপ্ত সেনা নেই। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “দেশবাসী জানতে চায়, কাদের ইশারায় পার্বত্য অঞ্চলে পর্যাপ্ত সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়নি? এবং কি উদ্দেশ্যে তা বিলম্বিত হচ্ছে?
তিনি বলেন, জুলাই সনদের আইনিভিত্তি দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত, যাতে আগামী জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু করা যায়। দেশীয় কতিপয় ভারতপন্থী সুশীলদের কারণে জুলাই সনদ কার্যকর করা চ্যালেঞ্জের মুখে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কতিপয় উপদেষ্টার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক বলে মন্তব্য করেন আসাদুর রহমান খান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই শহীদদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, আহতদের সুচিকিৎসা এবং পুনর্বাসন অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর জাগপা সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম হাসু বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের সঙ্গে কোনো বেঈমানি হতে পারে না। জুলাই সনদের আইনিভিত্তি থাকা আবশ্যক। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করা এবং গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের দোসরদের ষড়যন্ত্র রুখতে হবে এবং হিন্দুস্তানের সঙ্গে শেখ হাসিনার অসম চুক্তি বাতিল করতে হবে।
মানববন্ধনে অন্যান্য বক্তৃতা দেন শ্রমিক জাগপার সভাপতি আসাদুজ্জামান বাবুল, যুব জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর জাগপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির আলম।
জাগপা নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে যে, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষা, পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।



















