close

লাইক দিন পয়েন্ট জিতুন!

অকার্যকর স্লুইস গেট, শত একর জমি চাষে ভোগান্তি

Md Jakir Hossain avatar   
Md Jakir Hossain
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নে প্রায় এক দশক ধরে একটি স্লুইস গেট অকার্যকর হয়ে থাকায় শতাধিক একর কৃষিজমি চাষে ভোগান্তির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।..

উপজেলার ছোট মেরুং এলাকার সোবাহানপুরে পাহাড় থেকে নেমে আসা মেরুংপাড়া ছড়ার ওপর ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে নির্মিত স্লুইস গেটটি কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে প্রায় ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে  শেষ আট–দশ বছর ধরে এটি কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্লুইস গেটটির পার্শ্ব দেয়াল ও কংক্রিটের আস্তরণ খসে পড়েছে, লোহার অংশে মরিচা ধরেছে এবং তিনটি দরজার মুখে মাটি, আগাছা ও পলিথিন জমে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। স্লুইস গেট থেকে কৃষি জমিতে পানি পৌঁছানোর শাখা ড্রেনগুলোও মাটি ও আগাছায় ভরাট হয়ে অকার্যকর হয়ে রয়েছে। এর কারণে বোরো ও অন্যান্য শুষ্ক মৌসুমে জমিতে সেচের অভাব দেখা দিচ্ছে। 

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বোরো ও শীতকালীন শুষ্ক মৌসুমে যখন সেচ সবচেয়ে জরুরি, তখন পানি পাওয়া যায় না। আবার বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসল নষ্ট হয়ে যায়।

কৃষকদের অভিযোগ, স্লুইস গেটটি অচল হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কারণও রয়েছে। তাঁরা জানান, তৎকালীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে খাগড়াছড়ি ২৯৮ নম্বর আসনের বর্তমান বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া যখন এমপি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন এটি নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে জনপ্রতিনিধিদেরকে এই বিষয়ে অবগত করলেও 'রাজনৈতিক কারণে' এটি সংস্কারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে কৃষকদের দাবি।

সোবাহানপুর এলাকার ভুক্তভোগী কৃষক আবুল কাশেম বলেন, “আমার প্রায় দুই একর জমি এই সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। স্লুইস গেট নষ্ট থাকায় ঠিকমতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না। বোরো মৌসুমে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে, ফলন কমে যাচ্ছে।”

আরেক কৃষক চমক আলি বলেন, “আমি চার একর জমিতে চাষ করি। আগে এই স্লুইস গেট থাকায় এর পানি দিয়েই সহজে সেচ দেওয়া যেত। এখন পানির অভাবে ঠিকমত অনেক জমি চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আর্থিক ভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছি, ফলে পরিবার নিয়ে ঠিকমতো চলতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। "

সওদাগর পাড়ার কৃষক মো. নেছার হক বলেন,
“স্লইস গেটটি অকার্যকর থাকায় আমার দুই একর জমি চাষ করতে পারছিনা। পানি না পাওয়ার কারণে সঠিক সময়ে ফসল চাষ করতে না পারায় আর্থিক ও পারিবারিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।"

এ বিষয়ে মেরুং ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মিনা চাকমা বলেন, “স্লুইস গেটটি দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর থাকায় কৃষকেরা ব্যাপক ভোগান্তিতে আছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে এবং দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে।” 

ছোট মেরুং কৃষি ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সামিমুল আবরার বলেন,“স্লুইস গেটটি দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকায় প্রায় একশো একর কৃষি জমিতে বোরো মৌসুমসহ বিভিন্ন সময়ে কৃষকেরা চাষাবাদে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।

দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, “সেচ সুবিধা না থাকলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। স্লুইস গেটটি সংস্কার করা হলে এই এলাকার কৃষকেরা আবার স্বাভাবিকভাবে চাষাবাদ করতে পারবেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।”

কৃষকরা দাবি করেছেন, দ্রুত স্লুইস গেট সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ না হলে বোরো ও অন্যান্য শুষ্ক মৌসুমে উৎপাদন আরও কমে যাবে এবং তাদের জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Geen reacties gevonden


News Card Generator