নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুল ছুটি দেওয়ার অভিযোগ, ঠাকুরগাঁওয়ের একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ..

আব্দুল্লাহ আল নোমান avatar   
আব্দুল্লাহ আল নোমান
নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুল ছুটি দেওয়ার অভিযোগ, ঠাকুরগাঁওয়ের একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ..
নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুল ছুটি দেওয়ার অভিযোগ, ঠাকুরগাঁওয়ের একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ..
****

ঠাকুরগাঁও, সংবাদদাতা।।

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নির্ধারিত সময়ের আগেই ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছুটি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সরেজমিনে বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। দেখা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শ্রেণি কার্যক্রম সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও মশালগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় দুপুর ১টায় এবং পাশ্ববর্তী খোলড়া উচ্চ বিদ্যালয় দুপুর সোয়া ২টায় ছুটি দিয়েছে।

ছুটির পর বিদ্যালয়গুলোর অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।

খোলড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এক লাইব্রেরি শিক্ষকের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে কথা হলে তিনি বলেন, “আমরা টিফিন বিরতি দিই না। তাই টানা ক্লাস নিয়ে প্রতিদিন সোয়া ২টায় ছুটি দিই। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।”

মো. কুতুবউদ্দিন নামে এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে আগাম ছুটি দিলে আমাদের সন্তানদের পড়াশোনায় মারাত্মক ক্ষতি হবে। নিয়মিত ক্লাস না হলে তারা পাঠ্যসূচি শেষ করতে পারবে না এবং পরীক্ষায় খারাপ ফলাফলের আশঙ্কা থাকবে। আমরা চাই সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পূর্ণ সময় ক্লাস নিশ্চিত করা হোক।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মশালগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর এক পরিচিত প্রভাষকের মৃত্যু হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক ওই জানাজায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।”

পাশ্ববর্তী খোলড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউলের সঙ্গে কথা হলে তিনিও ওই প্রভাষকের জানাজায় অংশগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, “আমাদের বিদ্যালয়ে টানা ক্লাস নিয়ে প্রতিদিন সোয়া ২টায় ছুটি দেওয়া হয়। টিফিন বিরতি দিলে অনেক শিক্ষার্থী আর বিদ্যালয়ে ফিরে আসে না।”

হরিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. শামসুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে জানা যায়, তিনি নিজ বাড়ি পঞ্চগড় যাওয়ার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিস ত্যাগ করেছেন। বিষয়টি অবগত করলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন।”

হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চন্দন করকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, “আপনাদের মাধ্যমে যেসব বিদ্যালয়ের নাম জানতে পেরেছি, সেগুলোর বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। শিক্ষকদের কাছে কারণ জানতে চাওয়া হবে। সরকারের নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। জনবল সংকট রয়েছে, তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আখতার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

 

Walang nakitang komento


News Card Generator