close

লাইক দিন পয়েন্ট জিতুন!

নীলফামারীতে আগাম জাতের সরিষার বাম্পার ফলন কৃষকদের মুখে হাসি..

SLB Shuvo avatar   
SLB Shuvo
এ বছর নীলফামারী জেলায় আগাম জাতের সরিষার অভূতপূর্ব ফলন হয়েছে। কৃষকরা এখন মাঠ থেকে ফসল তুলে ঘরে তোলার ব্যস্ত সময় পার করছেন।..

নীলফামারীতে আগাম জাতের সরিষার বাম্পার ফলন কৃষকদের মুখে হাসি
এ বছর নীলফামারী জেলায় আগাম জাতের সরিষার অভূতপূর্ব ফলন হয়েছে। কৃষকরা এখন মাঠ থেকে ফসল তুলে ঘরে তোলার ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্বল্প সময়ে ভালো ফলন, কম খরচ এবং বাজারে উচ্চমূল্য পাওয়ায় সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে কয়েকগুণ। বিশেষ করে গত বছর আলু চাষে ব্যাপক লোকসানের পর অনেক কৃষকই এখন সরিষার দিকে ঝুঁকেছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে জেলার ছয়টি উপজেলায় সরিষা চাষের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯,০২৩ হেক্টর। কিন্তু কৃষকদের উৎসাহ, সরকারি প্রণোদনা, উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চাষের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১,০০০ হেক্টরে অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর।

চাষ হয়েছে উন্নত আগাম জাত যেমন বারী-০৯, বারী-১৪, বারী-১৫, বারী-১৮ এবং টরি-০৭ এসব জাতের ফলন দ্রুত এবং উচ্চমাত্রার হওয়ায় কৃষকরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন।

আলুর লোকসান থেকে সরিষায় ঝুঁকছেন কৃষক
গত মৌসুমে আলু চাষে দামপতনের কারণে অনেক কৃষক লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। ফলে এবার তারা বিকল্প ফসল হিসেবে সরিষা চাষকে বেছে নিয়েছেন। সরিষা চাষে খরচ কম, সময় কম লাগে এবং লাভও বেশি। অনেকেই আমন ধান কাটার পরপরই জমিতে সরিষার বীজ ছিটিয়ে দিয়েছেন—যাতে অতিরিক্ত সেচ বা নিড়ানির প্রয়োজন কম পড়ে।

কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নারী উদ্যোক্তা চাষি শামিমা নাসরিন বলেন, “আগে প্রতি বছর আলু চাষ করতাম। দাম কমে যাওয়ায় এবার তিন বিঘা জমিতে আগাম সরিষা চাষ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে। আশা করছি বিঘাপ্রতি ৫ থেকে ৬ মণ পর্যন্ত পাব।”

সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের মানুষগড়া গ্রামের চাষি মোসফিকুর রহমান জানান, “প্রতি বছরই সরিষা চাষ করি। এবার আগাম চাষ করে ফলন অসাধারণ পেয়েছি। খরচ কম, লাভ বেশি। সরিষার খড় জ্বালানি হিসেবে দারুণ কাজে লাগে, বাড়িতে খাঁটি তেলের চাহিদাও মেটে।”

সরকারি সহায়তা ও ফসল তোলার পদ্ধতি
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর রহমান বলেন, “প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের উন্নতমানের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। ধান কাটার ১৫ দিন আগে ধানক্ষেতে বিঘাপ্রতি দেড় কেজি বীজ ছিটিয়ে দিলে সিক্ত জমিতেই সরিষা হয়ে যায়। এতে খরচ অনেক কম পড়ে এবং আগাম বাম্পার ফলন পাওয়া যায়।”

সাধারণত ডিসেম্বরের মধ্যভাগ থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠ থেকে সরিষা তুলে উঠোনে গাদি করে রাখা হয়। বেশি পেকে গেলে দানা ফেটে অপচয় হয়, তাই কৃষকরা আধাপাকা অবস্থায় ফসল সংগ্রহ করছেন।

এবারের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। সরিষা চাষ এখন নীলফামারীর কৃষি অর্থনীতিতে একটি লাভজনক ও টেকসই বিকল্প হয়ে উঠেছে।

No se encontraron comentarios


News Card Generator