নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের চলিতডহর গ্রামে রোববার রাতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পূর্বধলা থানা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে ২৫৫ গ্রাম গাঁজাসহ আব্দুস সালাম (৪১) নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটককৃত আব্দুস সালাম ওই এলাকার মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে একজন মনিহারী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। পুলিশি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও জব্দ তালিকার তথ্য অনুযায়ী, নিজের দোকানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মাদকদ্রব্য কেনাবেচার সাথে জড়িত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার রাতে পুলিশের একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় অবস্থান নিলে আব্দুস সালামের দোকান থেকে গাঁজার চালানটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়, যা স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
দীর্ঘদিন ধরে মনিহারী দোকানের আড়ালে মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলেন আব্দুস সালাম, যা স্থানীয় এলাকাবাসীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকাশ্যে ব্যবসার আড়ালে মাদক কারবার চলায় এলাকার যুবসমাজ ও উঠতি বয়সী তরুণরা বিপথগামী হওয়ার চরম ঝুঁকিতে ছিল। তারা জানান, দোকানের ভেতরে মাদক মজুদ রাখার বিষয়টি এলাকায় অনেকটা ওপেন সিক্রেট থাকলেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকার ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস করেনি। জব্দকৃত এই ২৫৫ গ্রাম গাঁজা প্রমাণ করে যে, স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের বিস্তার কতটা গভীরে পৌঁছেছে। মাদক ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্কের কারণে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভীতি কাজ করছিল, এই আটকের মাধ্যমে তার একটি নেতিবাচক প্রতিফলন ফুটে উঠেছে।
অভিযানের বিষয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আটকের পর পরই আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সোমবার দুপুরে তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে এবং অপরাধের সাথে জড়িত কেউই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। পুলিশের এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, ছোটখাটো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে যেসব মাদক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, তাদের চিহ্নিত করতে প্রশাসন এখন গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করেছে।
মাদকবিরোধী এই অভিযান ও গ্রেফতারের ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করছে। তবে কেবল একজন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করলেই মাদকের এই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়, বরং এর পেছনে থাকা মূল সরবরাহকারী ও সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় ভবিষ্যতে এলাকাভিত্তিক কঠোর মনিটরিং এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই, যা আগামী দিনে যুবসমাজকে মাদকের মরণফাঁদ থেকে রক্ষা করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।