প্ কলেজ শিক্ষক: যৌতুক ও একাধিক বিয়ের অভিযোগে তোলপাড় কাপাসিয়া..

1753900756578223 avatar   
1753900756578223
প্ কলেজ শিক্ষক: যৌতুক ও একাধিক বিয়ের অভিযোগে তোলপাড় কাপাসিয়া..
প্ কলেজ শিক্ষক: যৌতুক ও একাধিক বিয়ের অভিযোগে তোলপাড় কাপাসিয়া..
কুমিল্লার আগানগর আদর্শ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে প্রথম স্ত্রীকে গোপন করে সহকর্মী শিক্ষিকাকে বিয়ে, যৌতুক এর দাবি উঠেছে।..

গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার পাবুর গ্রামের বাসিন্দা এবং কুমিল্লার আগানগর আদর্শ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রতারণা ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উঠেছে। পেশায় শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তিনি তার পূর্বের বিবাহিত জীবনের তথ্য গোপন রেখে পার্শ্ববর্তী এলাকার এক স্কুল শিক্ষিকা শাহিনুর আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুকাল অতিবাহিত হওয়ার পর প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতি প্রকাশ্যে এলে সাখাওয়াতের পারিবারিক প্রতারণার বিষয়টি উন্মোচিত হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দাম্পত্য কলহ দ্রুতই ভয়াবহ রূপ নেয়, যেখানে একজন শিক্ষকের নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সাখাওয়াত হোসেন তার দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট করার অপচেষ্টা করেন এবং তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করতে থাকেন, যা শিক্ষক সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষিকা শাহিনুর আক্তারের অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই সাখাওয়াত হোসেন তার কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করতে থাকেন। পারিবারিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা এবং গর্ভস্থ সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে শাহিনুর নিরুপায় হয়ে তাকে চার লক্ষ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু লোভী সাখাওয়াতের চাহিদার শেষ ছিল না; মাত্র এক মাস না পেরোতেই তিনি পুনরায় পাঁচ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এই অনৈতিক দাবির প্রেক্ষিতে শাহিনুর অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে জোরপূর্বক বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং গোপনে একতরফা ডিভোর্স লেটার পাঠানো হয়। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন ন্যাক্কারজনক আচরণে ভুক্তভোগী পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং তাদের অভিযোগ, সাখাওয়াত হোসেন নিজের পেশাগত প্রভাব খাটিয়ে এবং অর্থ দিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে একের পর এক অপরাধ সংঘটন করে চলেছেন।

আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী শাহিনুর আক্তার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত বিচার পাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, আসামি সাখাওয়াত হোসেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু অসাধু সদস্যকে ম্যানেজ করে অত্যন্ত কৌশলে জামিনে বেরিয়ে এসেছেন এবং বর্তমানে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন ঘৃণ্য প্রতারণা ও যৌতুক প্রথাকে প্রশ্রয় দেওয়া কেবল আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ নজরদারি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নারী এমন প্রতারণার শিকার না হন।

শিক্ষকতা পেশার আড়ালে সাখাওয়াত হোসেনের এমন কর্মকাণ্ড কেবল একটি পরিবারের ধ্বংস ডেকে আনেনি, বরং শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তিকে জনমানসে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সমাজব্যবস্থায় নারীর নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এক বড় বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীকে শাস্তির আওতায় আনা না হয়, তবে এই ধরনের অপরাধপ্রবণতা সমাজে আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা কেবল ভুক্তভোগী পরিবার নয়, বরং পুরো এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।

No comments found


News Card Generator