বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ইসলাম ধর্মে মাজার ভাঙা বা লাশ পুড়িয়ে দেয়া নবী করিম (সা.)-এর শিক্ষা নয়। তিনি অভিযোগ করেন, ধর্মের নামে দেশে বিভাজন সৃষ্টি ও ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ইসলাম কখনোই সহিংসতা, বিভাজন কিংবা বিদ্বেষ ছড়ানোর শিক্ষা দেয়নি। বিশেষ করে মাজার ভেঙে ফেলা বা লাশ পুড়িয়ে দেয়া কোনোভাবেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা হতে পারে না। তিনি দাবি করেন, ধর্মকে ব্যবহার করে দেশে বিশৃঙ্খলা ও বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, যা দেশের জন্য ভয়ঙ্কর সংকেত বয়ে আনতে পারে।
শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি নৈরাজ্যের পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশে তৌহিদী জনতার নামে নানা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং এর পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।
রিজভী বলেন, “ধর্মের নামে নানা ফতোয়া দিয়ে সমাজকে বিভক্ত করা হচ্ছে। অথচ ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম। মানুষের মধ্যে বিভাজন নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধনই ইসলামের মূল শিক্ষা।” তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে বিদেশি মহলের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। আজও তেমন কোনো ষড়যন্ত্র চলছে কি না, অন্তবর্তীকালীন সরকারের উচিত তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা।
তিনি বলেন, “পাকিস্তান আমলেও এমন ঘটনা ঘটেনি। তখনও মাজার আক্রমণ কিংবা মৃতদেহ পুড়িয়ে দেয়ার মতো নৃশংসতা কেউ দেখেনি। অথচ এখন এই ধরনের কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা ধর্ম ও সংস্কৃতির পরিপন্থী।”
রিজভী অভিযোগ করেন, ভেতর থেকে ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে এবং এর উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ কখনোই সহিংসতা চায় না। কিন্তু একটি গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে ধর্মকে ব্যবহার করছে, মিথ্যা ফতোয়া দিচ্ছে এবং জনগণকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে।”
তিনি ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসলাম ধর্ম মাজার ধ্বংস, লাশ পুড়িয়ে দেয়া বা মানুষের মধ্যে ঘৃণা ছড়ানোর শিক্ষা দেয় না। বরং ইসলাম শেখায় ভ্রাতৃত্ব, দয়া, সহনশীলতা ও শান্তির বার্তা। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড যারা করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
রিজভী আরও দাবি করেন, দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে একটি শক্তিশালী মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা চায় দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট হোক এবং জনগণ বিভক্ত হয়ে পড়ুক। তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে সত্য উদঘাটন করার। যারা এই ষড়যন্ত্র করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।”
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “মিলাদুন্নবী আমাদের জন্য শুধু উৎসব নয়, এটি শিক্ষা গ্রহণের দিন। নবী করিম (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ আমাদের শিখিয়ে দেয় কিভাবে দয়া, শান্তি ও মানবতার পথে চলতে হয়। কিন্তু আজ ধর্মের নামে যারা বিভাজন তৈরি করছে, তারা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে বিচ্যুত।”
তিনি মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান, ইসলামের প্রকৃত আদর্শ ছড়িয়ে দিতে এবং ধর্মের নামে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।