নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র দেড় মাসের (৪৫ দিন) মাথায় দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই স্বল্প সময়ে সরকারের গৃহীত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। রাষ্ট্র পরিচালনায় অর্থের জোগান দিতে এবং পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিশাল অংকের দায় মেটাতেই মূলত এই বিপুল পরিমাণ ঋণ নিতে হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ৪৫ দিনে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সম্মিলিতভাবে ৪১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে একটি বড় অংশ নেওয়া হয়েছে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে। সাধারণত বছরের শুরুতে বা সরকার পরিবর্তনের সময় ঋণের প্রবণতা বাড়লেও, দেড় মাসের মধ্যে এত বিপুল অংকের ঋণ গ্রহণের ঘটনা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেশ বিরল।
অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মতে, এই ঋণের পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক ও কৌশলগত কারণ রয়েছে:
-
বাজেট ঘাটতি পূরণ: চলতি অর্থবছরের বিশাল বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
-
বিগত সরকারের বকেয়া পরিশোধ: গত সরকারের রেখে যাওয়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশাল বকেয়া বিল এবং দেশি-বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে।
-
জ্বালানি আমদানির চাপ: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।
-
প্রশাসনিক ব্যয়: নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং জরুরি রাষ্ট্রীয় প্রকল্পগুলো সচল রাখতে অর্থের জোগান দিতে হচ্ছে।
হঠাৎ করে ব্যাংকিং খাত থেকে এত বেশি ঋণ নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেয়, তবে বাজারে মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আরও বাড়তে পারে। এছাড়া, সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঋণ গ্রহণ সাময়িক। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে গতি আনা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়িয়ে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
উপসংহার: বিএনপি সরকারের এই বিশাল অংকের ঋণ গ্রহণ একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়ক হবে, অন্যদিকে এটি দেশের সামগ্রিক ঋণের বোঝা বাড়িয়ে দিতে পারে। সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা কীভাবে এই ঋণের চাপ সামলায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীরা।



















