জেলা প্রতিনিধি ঝালকাঠি | ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনে আসন্ন নির্বাচনের প্রচারাভিযান কেন্দ্র করে বর্তমানে এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা অনুভূত হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকের হয়ে প্রচারণা চালাতে গিয়ে মহিলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার দুপুরে রাজাপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই ঘটনাটি উত্থাপন করেন, যা নিয়ে এখন চারিদিকে আলোচনা চলছে।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগের প্রসঙ্গে জানা যায় যে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য উপস্থাপন করেন উপজেলা মহিলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য খাদিজা বেগম। তিনি জানান, শুক্তাগড় ইউনিয়নের পিংড়ি এলাকায় যখন একদল নারী কর্মী নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, তখন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামালের সমর্থকরা তাদের পথরোধ করেন এবং প্রচারে বাধা দেন। এই বিশেষ মুহূর্তটির বর্ণনা দিতে গিয়ে খাদিজা বেগম উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে প্রয়াত বিএনপি নেতার বড় বোন মাজেদা বেগম প্রচার অভিযানের সামনে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান। তারপরে, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জহিরুল হক সোহেলের নেতৃত্বে কিছু নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের প্রচারণায় সক্রিয় বাধা সৃষ্টি করেন। মহিলা নেত্রীরা অভিযোগ করেন যে, যুবদল নেতারা তখন জোরালো স্লোগান দিয়ে বলেন, ‘সোহেল ভাইয়ের এলাকায় এসব প্রচার চালানো যাবে না।’ এই বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতিতে, খবর পেয়ে ইউনিয়ন আমির আব্দুল আলিম যখন সেই স্থানে উপস্থিত হন, তখন তাকেও অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে তারা দাবি করেন।
জামায়াত প্রার্থীর ক্ষোভের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ফয়জুল হক বলেন, "গত কয়েকদিন ধরেই পিংড়িতে আমাদের কর্মীদের নানা ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। যারা নারীদের হেনস্তা করে এবং তাদের স্কার্ফ ধরে টেনে আক্রমণ করে, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চারভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। এই ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের বিরোধী এবং আদর্শবাদী সংগঠন হিসেবে জামায়াতের মতো সংগঠনের জন্য কদাপি কাম্য নয়," বলেন তিনি।
অপরদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, "এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি এবং এই অভিযোগ একজন নবাগত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মস্তিষ্কপ্রসূত এবং প্রতিপক্ষকে চরিত্রহীন করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। এই নাটক যিনি সাজিয়েছেন, বোঝায় যায় যে তিনি অনেক কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি," এমনটাই তার বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়।
উল্লেখ্য, এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মো. কবির হোসেন (উপজেলা জামায়াত আমির), মোসা. সাহিদা বেগম (সেক্রেটারি, উপজেলা মহিলা জামায়াত), মারিয়ম বেগম (সহ-সেক্রেটারি, উপজেলা মহিলা জামায়াত)সহ অন্যান্য স্থানীয় নারী নেত্রীরা। সবশেষে, পরিস্থিতি আরও উদ্ভট হওয়ার আশঙ্কায় জামায়াত কর্মীরা পাল্টা সংঘাতে প্রবেশ না করেই স্থান ত্যাগ করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যার ফলাফল অদূর ভবিষ্যতে দেখতে পাওয়া যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



















