close

ভিডিও আপলোড করুন পয়েন্ট জিতুন!

ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়ার পর এবার কি ইরানের পালা? আমেরিকার ধ্বংসলীলার ব্লুপ্রিন্ট নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
উদ্দেশ্য একটাই সেখানে একটি পুতুল সরকার বসিয়ে ইরানের বিশাল তেল ও গ্যাসের মজুত নিয়ন্ত্রণ করা। তবে সামরিক দিক থেকে ইরান ইরাক বা লিবিয়ার মতো দুর্বল নয়।..

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এখন একটাই বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— আমেরিকা কি এবার ইরানকেও ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া এবং আফগানিস্তানের মতো ধ্বংস করে দেবে? প্রখ্যাত সাংবাদিক ও বিশ্লেষক শুভংকর মিশ্রের এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে আমেরিকার অতীত হস্তক্ষেপ এবং এর ফলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া দেশগুলোর এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

যেভাবে সাজানো হয় ধ্বংসের নীলনকশা বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার একটি পুরোনো কৌশল রয়েছে। যেসব দেশ আমেরিকার 'পেট্রো-ডলার' নীতি মানতে অস্বীকার করে বা স্বাধীনভাবে চলতে চায়, আমেরিকা সেসব দেশে 'গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা' ও 'মানবাধিকার রক্ষার' নামে হস্তক্ষেপ করে। প্রথমে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশটিকে দুর্বল করা হয়, জনগণের মধ্যে অসন্তোষ উসকে দেওয়া হয় এবং শেষমেশ সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দেশটির সম্পদ (বিশেষ করে তেল) লুট করা হয়।

সাদ্দাম ও গাদ্দাফির করুণ পরিণতি ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ইরাকের সাদ্দাম হোসেন যতদিন আমেরিকার পক্ষে ছিলেন, ততদিন কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু তিনি যখন ইরাকের তেল ডলারের পরিবর্তে 'ইউরো'-তে বিক্রির ঘোষণা দেন, তখনই আমেরিকার নিশানায় পরিণত হন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইরাকে হামলা চালিয়ে সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসি দেওয়া হয়। আজ ইরাকে বিপুল তেল থাকলেও সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই।

একই ঘটনা ঘটেছিল আফ্রিকার একসময়ের সবচেয়ে ধনী দেশ লিবিয়ায়। মুয়াম্মার গাদ্দাফি যখন পুরো আফ্রিকার জন্য 'গোল্ড দিনার' (স্বর্ণমুদ্রা) চালু করে ডলারের আধিপত্য কমানোর চেষ্টা করেন, তখন সেখানেও হামলা চালায় পশ্চিমা বিশ্ব। গাদ্দাফির মৃত্যুর পর লিবিয়া আজ একটি ব্যর্থ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্র।

সিরিয়া ও আফগানিস্তানের ধ্বংসযজ্ঞ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ যখন গ্যাস পাইপলাইনের রাজনীতিতে আমেরিকার স্বার্থের বিরুদ্ধে যান, তখন সেখানে বাধিয়ে দেওয়া হয় গৃহযুদ্ধ। অন্যদিকে, আফগানিস্তানে ২০ বছর ধরে 'নেশন বিল্ডিং'-এর নামে যুদ্ধ করে আমেরিকা। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে এবং লাখো মানুষের প্রাণহানির পর, শেষ পর্যন্ত তালেবানের হাতেই ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে রাतोंরাত দেশে ফিরে যায় মার্কিন বাহিনী।

ইরানের সামনে এখন অগ্নিপরীক্ষা খামেনির মৃত্যুর পর আমেরিকা এখন ইরানেও একই ধরনের অস্থিতিশীলতা বা গৃহযুদ্ধ বাঁধানোর চেষ্টা করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই সেখানে একটি পুতুল সরকার বসিয়ে ইরানের বিশাল তেল ও গ্যাসের মজুত নিয়ন্ত্রণ করা। তবে সামরিক দিক থেকে ইরান ইরাক বা লিবিয়ার মতো দুর্বল নয়।

ইরানের এখন দ্বিমুখী লড়াই একদিকে ইসরায়েল ও আমেরিকার মতো বাইরের শত্রু, অন্যদিকে দেশের ভেতরের অর্থনৈতিক সংকট ও জন-অসন্তোষ। বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাস প্রমাণ করে যে বাইরের দেশের হস্তক্ষেপ কখনো কোনো দেশে শান্তি বয়ে আনে না। ইরানীরা যদি পশ্চিমা প্রোপাগান্ডার ফাঁদে পা দেয়, তবে তাদের পরিণতিও সিরিয়া বা ইরাকের মতো হতে পারে।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator