close

লাইক দিন পয়েন্ট জিতুন!

হ্যাঁ’ মানে স্বাধীনতা, ‘না’ মানে গোলামি-ড.শফিকুর রহমান

Nazrul Islam avatar   
Nazrul Islam
নিজস্ব প্রতিবেদক

মহেশখালীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মহেশখালীকে একটি আধুনিক স্মার্ট ইকোনমিক জোন হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে দেশ পরিবর্তনের আহ্বান জানান এবং বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে স্বাধীনতা, ‘না’ মানে গোলামি।

তিনি যুবকদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান, নারীদের নিরাপত্তা, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কাজের সুযোগ এবং পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। সভাপতির বক্তব্যে ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ মহেশখালীর মিষ্টি পানকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধন ও লবণকে রপ্তানিযোগ্য পণ্য করার কথা বলেন।

জনসভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, আলেম-ওলামা, ছাত্রনেতা ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

------

জনসভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাস্টার শামীম ইকবাল, আমীর, মহেশখালী উপজেলা দক্ষিণ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান জুলাইয়ের শহীদ যোদ্ধা তানভির সিদ্দিকীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, জুলাইয়ের বিপ্লবের মধ্য দিয়েই আজকের এই পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। বুক চিতিয়ে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, শহীদ তানভির সিদ্দিকী তাঁদের অন্যতম। তাঁদের আত্মত্যাগ না হলে জাতির পক্ষে এই অমানিশার অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসা সহজ হতো না। তিনি বলেন, আমি আজ মহেশখালীবাসীর কাছে ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া নিয়ে আসিনি। আমি এসেছি দেশের পরিবর্তনের জন্য, জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য, মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতে এবং বাংলাদেশকে একটি সম্মানিত ও নন্দিত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রয়োজন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের এক ইঞ্চি জমিও আর কারো কাছে বন্ধক রাখা হবে না। কোনো আধিপত্যবাদ বা চোখ রাঙানিকে পরোয়া করা হবে না। গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে স্বাধীনতা, ‘না’ মানে গোলামি। আগামী ১২ তারিখে প্রথম ভোট ‘হ্যাঁ’ দিয়ে সবাইকে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের মাঝে গণজোয়ার সৃষ্টি করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যারা এর বিপক্ষে অবস্থান নেবে, জনগণ তাদের আবার ফ্যাসিবাদ ও পরিবারতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র কায়েমের অপচেষ্টা হিসেবে দেখবে। যুবসমাজ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের যুবকরা কখনো বেকার ভাতার জন্য আন্দোলন করেনি। তারা সম্মানজনক কাজ চেয়েছে। আমরা যুবকদের হাতে অসম্মানজনক বেকার ভাতা নয়, সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। মহেশখালী-কুতুবদিয়া এই কর্মসংস্থানের অন্যতম সম্ভাবনাময় অঞ্চল। তিনি আরও বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মহেশখালীকে ইনশাআল্লাহ সিঙ্গাপুর কিংবা হংকংয়ের চেয়েও উন্নত একটি স্মার্ট ইকোনমিক জোনে পরিণত করা সম্ভব। যুবকরাই হবে আগামীর বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন, আর আমরা থাকব তাঁদের সহযাত্রী হিসেবে। দেশ থেকে অর্থপাচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, যা দেশের বার্ষিক বাজেটের চার গুণ। এই অর্থ জনগণের। ইনশাআল্লাহ এই টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে ইনসাফের ভিত্তিতে সারা দেশে উন্নয়ন করা হবে। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই কাজের সুযোগ পাবে। কর্মক্ষেত্র, চলাচল ও সমাজের সর্বত্র নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে। সভাপতির বক্তব্যে ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গুণগত মান ও স্বাদের দিক থেকে মহেশখালীর মিষ্টি পান জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত। আল্লাহ দায়িত্ব দিলে মহেশখালীর মিষ্টি পানকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধন করা হবে এবং এর স্বত্ব সংরক্ষণ করা হবে। তিনি বলেন, আমদানি নয়, লবণকে রপ্তানিযোগ্য পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্যারাবন নিধনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের ওপর প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্য বন্ধ করা এবং মিথ্যা মামলাবাজদের রুখে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষে বক্তব্যে মাওলানা উবাইদুল্লাহ নদভী নবী (সা.)-এর অবমাননাকারীদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান কার্যকর করার দাবি জানান। জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামী ইসলামী পার্টি, এনসিপি, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, আলেম-ওলামা, পেশাজীবী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এছাড়াও বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাহ এবং কক্সবাজার জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি। জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠান শেষে সমাপ্তি ঘোষণা করেন মহেশখালী উপজেলা উত্তরের আমীর মাস্টার নজরুল ইসলাম। সংক্ষেপ করে দাও

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator