আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রবণতা রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। ধানের শীষের পক্ষে দলের ঐক্য অটুট রাখতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা, এমনকি বহিষ্কারের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র।
কঠোর হুঁশিয়ারি ও নজরদারি: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, দলীয় মনোনয়নের বাইরে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, দলীয় পদধারী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। এর মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেতাদের বার্তা ও কৌশল: কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় এবং ত্যাগী নেতা। তবে দলের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে হবে। বিদ্রোহীদের বোঝাতে শিগগিরই তাদের কেন্দ্রে ডাকা হতে পারে এবং দল ক্ষমতায় গেলে তাদের মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হবে। এতে কাজ না হলে বহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্ত আসবে। এছাড়া যারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে বহিষ্কার: দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলমসহ ৯ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। মিত্রদের ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতেও বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া: স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের চাপে তারা প্রার্থী হয়েছেন। তারা আশা করছেন দল তাদের ত্যাগের কথা বিবেচনা করবে। আবার কেউ কেউ দলীয় শৃঙ্খলা মেনে শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কথা ভাবছেন, তবে এর আগে তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে চান।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ৬০টিরও বেশি আসনে বিএনপির দলীয় পদধারী শতাধিক নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।



















