চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ধনাগোদা নদীর তীরবর্তী তালতলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকাটি বর্তমানে ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। গত ২২ জুন সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর তীব্র স্রোতের প্রভাবে বিদ্যালয়সংলগ্ন মসজিদ ও ঈদগাহের সীমানা প্রাচীরে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বেশ কিছু স্থানে মাটি ধসে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ভাঙন প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হয়েছে, যা স্থানীয় জনসাধারণ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙন যদি এভাবে অব্যাহত থাকে, তবে অদূর ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের মূল ভবন, ধনাগোদা বাজার এবং পার্শ্ববর্তী ফসলি জমিসহ জনবসতি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উচ্চঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বকেই সংকটে ফেলছে না, বরং পুরো এলাকার ভৌগোলিক নিরাপত্তা ও জনজীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
নদীভাঙনের এই বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং তাদের অভিভাবকরা। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাসপিয়া ও নাজমুল জানায়, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসার সময় নদীর পাড়ের ভাঙন দেখে তারা চরম দুশ্চিন্তায় থাকে, কারণ ভাঙনটি বিদ্যালয়ের মূল ভবনের দিকে ক্রমাগত এগিয়ে আসছে। এছাড়া দাউদকান্দি থেকে নৌকায় নদী পার হয়ে আসা অষ্টম শ্রেণির সুরাইয়া ও সপ্তম শ্রেণির সাকিবের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য যাতায়াত পথটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের মতে, প্রতি বছর বর্ষাকালে এই ভাঙন তীব্রতর হলেও স্থায়ী কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবক মহলে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তা তাদের সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানো নিয়েও সংশয় তৈরি করছে, যা পরোক্ষভাবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে প্রভাব ফেলছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে তালতলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফারুকুল ইসলাম জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি জানান, ঈদগাহের সীমানা প্রাচীর ভেঙে পড়ার পর এখন মূল ভবনটি হুমকির মুখে রয়েছে। এ বিষয়ে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ জানিয়েছেন যে, ভাঙনপ্রবণ এলাকাটি তাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে কেবল পর্যবেক্ষণ বা কারিগরি মূল্যায়নের আশ্বাসে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না স্থানীয়রা। মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি জানিয়েছেন, প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, কার্যকর ব্যবস্থা বলতে কেবল পরিদর্শন নয়, বরং জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ বা ব্লক ফেলে ভাঙন রোধে দৃশ্যমান ও টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
নদীভাঙনের এই সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তালতলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজটি অচিরেই নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে, যা এই অঞ্চলের শিক্ষা অবকাঠামোয় অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনবে। নদীমাতৃক এই জনপদে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশাসনিক গাফিলতি বা বিলম্বিত উদ্যোগের মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তবে কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং ধনাগোদা বাজারকেন্দ্রিক পুরো এলাকার অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামো বিপর্যয়ের মুখে পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয়দের জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।