close

ভিডিও আপলোড করুন পয়েন্ট জিতুন!

ঢাকা নয়, বাউফলই আমার ঠিকানা, অমানবিক নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
তিনি বলেন, ‘‘টর্চারের ডিরেকশন ছিল এমন, যেন আমি আর হেঁটে কোর্টে উঠতে না পারি। সাড়ে চার বছরের জেলজীবনের মধ্যে আড়াই বছর আমাকে হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে হয়েছে।..

কেন্দ্রীয় নেতাদের বারবার ঢাকার আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে নিজের জন্মভূমি পটুয়াখালীর বাউফলের মানুষের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া অমানবিক নির্যাতন, জেলজীবন এবং পারিবারিক ট্র্যাজেডির লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। তিনি জানান, রাজনীতির জন্য তিনি তার অনাগত চতুর্থ সন্তানকেও হারিয়েছেন, যাকে তিনি ‘শহীদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

৬৭ দিনের রিমান্ড ও পঙ্গুত্ববরণ ড. মাসুদ জানান, রাজনৈতিক কারণে তাকে একটানা ৬৭ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। ডিবি অফিসে মিন্টো রোডে তার ওপর চালানো হয় অকথ্য নির্যাতন। তিনি বলেন, ‘‘টর্চারের ডিরেকশন ছিল এমন, যেন আমি আর হেঁটে কোর্টে উঠতে না পারি। সাড়ে চার বছরের জেলজীবনের মধ্যে আড়াই বছর আমাকে হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে হয়েছে। এমনকি দেড় বছর আমি সিজদা দিতে পারিনি।’’

স্ত্রীকে গ্রেপ্তার ও সন্তান বিয়োগ সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, তাকে না পেয়ে তার ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় তার স্ত্রী নিজের গর্ভাবস্থার কথা জানালেও পুলিশ অমানবিক আচরণ করে। ওই সময় পুলিশের গাড়ির বেপরোয়া গতির ঝাঁকুনিতে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়।

ড. মাসুদ বলেন, ‘‘ডাক্তার বলেছিলেন, মা অথবা বাচ্চা যেকোনো একজনকে বাঁচাতে হবে। ওই ঘটনায় আমি আমার চতুর্থ সন্তানকে হারিয়েছি, সে আমার কাছে শহীদ।’’

বাবার মৃত্যু ও মায়ের দোয়া ড. মাসুদ জানান, তাকে হুইলচেয়ারে বসা দেখে তার ৯২ বছর বয়সী বাবা পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘‘আমার ৪০ বছরের টগবগে ছেলেটাকে তোমরা পিটিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছো, আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।’’ এই মানসিক আঘাত থেকেই স্ট্রোক করে তার বাবা মারা যান।

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমার মা এবং পুরো পরিবার আমাকে দ্বীন ও দেশের জন্য কোরবানি করে দিয়েছেন। তাদের কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই।’’

বাউফলের মানুষের ভালোবাসা ঢাকার বদলে বাউফলকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘‘আমার দুর্দিনে বাউফলের মানুষ, এমনকি আওয়ামী লীগ করা লোকেরাও আমার জন্য নফল রোজা রেখেছে, জিলাপি বিতরণ করে দোয়া করিয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা আমাকে ঢাকায় নির্বাচন করতে বললেও আমি বলেছি বাউফলের মানুষের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক, আমি তাদের ছেড়ে কোথাও যাব না।’’

তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, ‘‘জেল-জুলুম, রিমান্ড আর ক্রসফায়ারের ভয় আমাকে দমাতে পারেনি, ভবিষ্যতেও কোনো প্রলোভন বা রক্তচক্ষু আমাকে মাথা নত করাতে পারবে না।’’

Inga kommentarer hittades


News Card Generator