ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্রার্থীদের শপথ গ্রহণ

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্রার্থীদের শপথ গ্রহণ
ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্রার্থীদের শপথ গ্রহণ
At Dhaka University’s historic Bat Tala, BNP-backed “Abid-Hamim-Mayed” panel took oath for the Daksu and hall elections, pledging to build a safe, democratic, and student-friendly campus while ensurin..

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের শপথ নিল ছাত্রদল সমর্থিত ‘আবিদ-হামিম-মায়েদ’ পরিষদ। শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়তে নিরাপত্তা, অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন প্রার্থীরা।

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সামনে রেখে নতুন উদ্দীপনায় মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির সমর্থিত ‘আবিদ-হামিম-মায়েদ’ পরিষদের প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন সংলগ্ন ঐতিহাসিক বটতলায় অনুষ্ঠিত হয় এ শপথবাক্য পাঠের অনুষ্ঠান।

শনিবার রাতে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ শপথ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণার পরদিনই শত শত শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক পরিবেশে ছাত্রদলের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা বলেন, তারা শুধু একটি নির্বাচনে অংশ নিতে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও অধিকারভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। বক্তৃতায় উঠে আসে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং ক্যাম্পাসে সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়।

প্রার্থীদের শপথবাক্যে বলা হয়, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ক্যাম্পাসে যে দমননীতি, গণরুম ও গেস্টরুমের নির্যাতনের সংস্কৃতি চালু ছিল, তা তারা আর ফিরতে দেবেন না। শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকার ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠনের প্রতিশ্রুতি তারা প্রকাশ করেন।

শপথে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি। প্রার্থীরা বলেন, মেয়েদের জন্য নিরাপদ আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, সমঅধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে বৈধ সিট প্রদান, পুষ্টিকর খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও তারা দেন।

ডিজিটাল যুগের হুমকি মোকাবেলায় প্রার্থীরা সাইবার বুলিং, ভুয়া তথ্য ও অনলাইন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, ছাত্রসমাজকে সুরক্ষা দেওয়া ও তথ্যের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

শিক্ষা, গবেষণা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম প্রসারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা বলেন, “আমরা চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশের নয়, বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক। এজন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

শপথ অনুষ্ঠানে অতীত আন্দোলনের ইতিহাসও উঠে আসে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস তুলে ধরে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীরা বলেন, প্রয়োজনে তারা আবারও গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বেন।

শপথপাঠ শেষে ‘আবিদ-হামিম-মায়েদ’ পরিষদের প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, নির্বাচিত হলে প্রতিটি শপথ বাস্তবায়ন করব। আমাদের লক্ষ্য একটাই—একটি শিক্ষার্থীবান্ধব, নিরাপদ ও আধুনিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা।”

তারা আরও আহ্বান জানান, সকল শিক্ষার্থী যেন ভোটের মাধ্যমে তাদেরকে জয়যুক্ত করে। কারণ তাদের জয় মানেই হবে গণতন্ত্র ও শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জয়।

নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনার আগেই ছাত্রদলের শপথবাক্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ক্যাম্পাসে ইতোমধ্যে এ নিয়ে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে এবং অনেকে বলছেন, এ ধরনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আমূল বদলে যাবে।

Inga kommentarer hittades


News Card Generator