ড. ইউনূস সরকারের জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারির পর উচ্চকক্ষ গঠন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের ভিন্নমতগুলো কতটুকু আমলে নেওয়া হলো, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
গতকাল বৃহস্পতিবার, সরকার কর্তৃক বহু আলোচিত 'জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ' জারির পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আদেশ জারির মাধ্যমে মূলত সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর সরকার একটি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করল, যা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতির ক্ষেত্রে বিএনপি প্রজ্ঞাপন জারির পক্ষে অবস্থান নিলেও সরকার সরাসরি 'আদেশ' জারি করেছে, যা বিএনপির সাংবিধানিক এখতিয়ার সংক্রান্ত দাবিকে আমলে নেয়নি। তবে এ ক্ষেত্রে জামায়াতের অবস্থান ছিল সাংবিধানিক আদেশের পক্ষে। রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের মতভিন্নতা কাটিয়ে সমন্বিত প্রস্তাব দেওয়ার জন্য সাত দিন সময় দেওয়া হলেও, কোনো আনুষ্ঠানিক ঐকমত্য না হওয়ায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার তার নিজস্ব উদ্ভাবনী কাঠামোতেই সনদ বাস্তবায়নের পথে হাঁটল।
গুরুত্বপূর্ণভাবে, গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে আয়োজনের যে দাবি বিএনপি করেছিল, তা সরকার পূরণ করেছে। সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে। এটি বিএনপির জন্য একটি বড় জয় হলেও, জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবি করা জামায়াতে ইসলামীর প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে। বিএনপি চেয়েছিল নিম্নকক্ষের আসনের অনুপাতের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের ১০০ আসন বণ্টন হোক। কিন্তু সরকার বিএনপির এই ভিন্নমত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে। বরং জামায়াত ও এনসিপির দাবি অনুযায়ী, সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতেই উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন হবে। অর্থাৎ, সংসদ নির্বাচনে দলগুলো যে অনুপাতে ভোট পাবে, সেই অনুপাতে উচ্চকক্ষের সদস্য মনোনীত করতে পারবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিএনপি সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে আসন বণ্টনের এই প্রক্রিয়া থেকে পিছিয়ে পড়ল। এছাড়াও, সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে অনুমোদনের সিদ্ধান্তটিও বিএনপির আপত্তির মুখেও গৃহীত হয়েছে।