চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ-এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ মে ২০২৫ সালে চৌদ্দগ্রামে যোগদানের পর মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে পিআইও আবুল কালাম আজাদকে ঘিরে উপজেলাজুড়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজে ঠিকাদারির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং আত্মীয় পরিচয়ে নোঃ আল আমিন নামের এক ব্যক্তিকে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পরিচয়ে ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকল্প তদারকি করাচ্ছেন।
সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অধিকাংশ চলমান প্রকল্প পরিদর্শন করেন আল আমিন। পরিদর্শনের নামে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। শ্রীপুর ইউনিয়নের ৫৫নং প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে আল আমিন ও জাহিদ হাছান নামের অপর এক ব্যক্তি প্রকল্প সেক্রেটারির কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পিআইও নিজেও সরেজমিনে গিয়ে একই ধরনের চাপ সৃষ্টি করেন বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া পিআইও’র বিরুদ্ধে অফিস সময় অনুসরণ না করা, অফিস সহায়ককে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো, দীর্ঘ সময় অফিসে ঘুমানো এবং সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারী জানান, বিষয়টি জানতে চাইলে পিআইও ক্ষিপ্ত হয়ে অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করেন এবং সাংবাদিকদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন। এমনকি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় নিয়েও কটূক্তি করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তরের প্রধান আবেদ খান-কে অবহিত করা হলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এ বার্তা পিআইও’র কাছে পৌঁছানোর পর তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, জেলা প্রধানের কথায় সবকিছু চলে না।
এর আগে উপজেলা সিনিয়র সাংবাদিক কাজী সেলিম তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে পিআইও তাকে কক্ষে প্রবেশ করতে দেননি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী দ্রুত তদন্তপূর্বক অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।



















