চাটখিল থানায় বসেই বালু বাণিজ্য: ক্ষমতার অপব্যবহার ও এসআই আব্দুল কুদ্দুসের দাপট..

Touhid Sarkar avatar   
Touhid Sarkar
চাটখিল থানায় বসেই বালু বাণিজ্য: ক্ষমতার অপব্যবহার ও এসআই আব্দুল কুদ্দুসের দাপট..
চাটখিল থানায় বসেই বালু বাণিজ্য: ক্ষমতার অপব্যবহার ও এসআই আব্দুল কুদ্দুসের দাপট..
সরকারি চাকরির পাশাপাশি ঠিকাদারি ও বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন চাটখিল থানার এসআই আব্দুল কুদ্দুস, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।..

নোয়াখালীর চাটখিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরাসরি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সোনাইমুড়ী-রামগঞ্জ সড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের বালু সরবরাহের কাজকে কেন্দ্র করে তিনি নিজের প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসআই কুদ্দুস সরাসরি পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় কিংবা সিভিল পোশাকে প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত থেকে বালু ফেলার নির্দেশনা দিচ্ছেন। তিনি নিজের নামে লাইসেন্স না করে বেনামে স্বজনদের ব্যবহার করে এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। আইন অনুযায়ী সরকারি চাকুরিজীবীদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ না থাকলেও, তিনি চাটখিল উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার ফিলিং স্টেশনের কক্ষ ব্যবহার করে নিয়মিত ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশ পরিচালনা করছেন, যা পেশাগত আচরণের চরম লঙ্ঘন।

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এসআই কুদ্দুস ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অন্য সাপ্লাইয়ারদের কাজ থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন এবং তাদের ট্রাক আটকে রেখে হয়রানি করছেন। তার ব্যবসায়িক পার্টনার বেলাল হোসেন জানান, আগে যৌথভাবে কাজ করলেও বর্তমানে এসআই কুদ্দুস এককভাবে প্রভাব বিস্তার করে ব্যবসা করছেন এবং কোনো প্রতিযোগী সাপ্লাইয়ার যাতে কাজ করতে না পারে সেজন্য প্রশাসনিক ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, তিনি নিজেই রাস্তার পাশে বসে বালু ফেলার কাজ তত্ত্বাবধান করছেন, যা একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না, কারণ পুলিশের পোশাকের আড়ালে তিনি যে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন, তাতে সাধারণ ঠিকাদাররা চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে এসআই আব্দুল কুদ্দুসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন এবং দায় চাপান তার ভাইয়ের ওপর। তবে পরবর্তীতে সাংবাদিকদের কাছে তিনি নিজেই স্বীকার করেন যে, সংবাদ প্রকাশিত হলে তাকে বদলি করা হবে এবং তিনি যেকোনো মূল্যে চাটখিল থানায় থাকতে চান। এমনকি এই সংবাদ প্রকাশ না করার বিনিময়ে তিনি সাংবাদিকদের আর্থিক সুবিধা প্রদানেরও প্রস্তাব দেন, যা তার পেশাগত সততা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। অন্যদিকে, নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন জানিয়েছেন যে, সরকারি চাকুরিতে থাকাকালীন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত তদন্তপূর্বক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একজন পুলিশ কর্মকর্তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলাই নষ্ট করছে না, বরং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের এই প্রবণতা সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের ইমেজ ক্ষুণ্ন করছে এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে সংকুচিত করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে অপরাধমূলক প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারি প্রকল্পের কাজে অনিয়ম স্থায়ী রূপ নেবে। চাটখিল থানায় তার এমন অনৈতিক অবস্থান বহাল থাকলে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা সামগ্রিক জননিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

Комментариев нет


News Card Generator