নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝালকাঠি | শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী দুটি লঞ্চের ভয়াবহ সংঘর্ষের কাহিনীটি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই সংঘর্ষের পরপরই 'এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯' লঞ্চের রুট পারমিট তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। একইসাথে নৌ-পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পর ঝালকাঠি থেকে লঞ্চটি জব্দ ও চার কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
রুট পারমিট বাতিল ও মামলা দায়ের
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ-এর সহকারী পরিচালক মো. সোলাইমান। তিনি জানিয়েছেন যে দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটির রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, নৌ-পুলিশ বাদী হয়ে চাঁদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। লঞ্চটিকে এই মামলার আলামত হিসেবে চাঁদপুরে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এর সাথে সাথে, লঞ্চটির নিরাপত্তার কড়াকড়ি বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যৌথ অভিযান ও আটককৃতদের অবস্থা
শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে নিজাম শিপিং লাইন্সের ‘অ্যাডভেঞ্চার-৯’ লঞ্চটি ঝালকাঠি টার্মিনালে পৌঁছালে ঘটনাস্থলে অভিযান শুরু করে পুলিশ। বরিশাল নৌ-পুলিশ ও ঝালকাঠি থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে লঞ্চটি জব্দ করে। ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, "লঞ্চটি ঝালকাঠিতে নোঙর করার পর মূল অভিযুক্ত সারেং, সুকানি, সুপারভাইজার ও ইঞ্জিনচালক কৌশলে পালিয়ে যায়। তবে আমরা লঞ্চের চারজন কেবিন বয়কে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছি। তাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।"
আটককৃতরা হলেন:
১. মো. মিন্টু (২৮): পিতা- আব্দুল কুদ্দুস মাঝি (নলছিটি, ঝালকাঠি)।
২. মো. সোহেল (৪০): পিতা- খলিলুর রহমান গাজী (গলাচিপা, পটুয়াখালী)।
৩. মহিন হাওলাদার (২৫): পিতা- ছামসুল হক হাওলাদার (নলছিটি, ঝালকাঠি)।
৪. মো. মনিরুজ্জামান (৪০): পিতা- সিদ্দিকুর রহমান (রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ)।
বর্তমান পরিস্থিতি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ
বর্তমানে আটককৃতদের থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং পালিয়ে যাওয়া মূল চালকদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মেঘনা নদীতে ঘটে যাওয়া এই সংঘর্ষের কারণ অনুসন্ধান করতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে তার জন্য কার্যকর ব্যবস্থাপনা নেওয়া। সেইসাথে, স্থানীয় জনসাধারণের নিরাপত্তা বজায় রাখতে লঞ্চ সার্ভিসগুলির নিয়মাবলী কঠোরভাবে মানতে বলা হয়েছে। সকলের সহযোগিতায় এই ঘটনা সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে।



















