close

ভিডিও আপলোড করুন পয়েন্ট জিতুন!

বর্তমানে ডাস্টবিন শব্দটি রাজনীতির সঙ্গে ম্যাচ করেছে

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
রাজনীতিতে এখন নতুন ট্রেন্ড স্ল্যাং শব্দের ব্যবহার। ‘ডাস্টবিন’, ‘সান্ডা’, ‘নিমডা’—সবই আজ রাজনীতির পরিচয়। গোলাম মাওলা রনি জানালেন, ভাষার এই সঙ্কটই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চিত্র নির্ধারণ করবে।..

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গন যেন এক বিচিত্র নাট্যমঞ্চে রূপ নিয়েছে, যেখানে তর্ক, সমালোচনা আর কাঁদা ছোড়াছুঁড়ির চেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে নতুন নতুন ব্যঙ্গাত্মক শব্দ। আর এসব শব্দ আজকের রাজনীতিকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করেছে, যেন এগুলোই হয়ে উঠেছে রাজনীতির নতুন ‘আইডেন্টিটি’। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এ বিষয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ ও জনপ্রিয় কলাম লেখক গোলাম মাওলা রনি।

তিনি বলেন, “বর্তমানে ‘ডাস্টবিন’ শব্দটি রাজনীতির সঙ্গে ভীষণভাবে ম্যাচ করছে।”
তার মতে, আজ যাদের কেউ অপছন্দ করে, তাদের নামের সঙ্গে ডাস্টবিন শব্দটি জুড়ে দিচ্ছে—অমুক ডাস্টবিন, তমুক ডাস্টবিন। শুধু দেশে নয়, প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যেও এই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি এসব শব্দ এখন রাজনৈতিক স্লোগানেও পরিণত হয়েছে।

‘সান্ডা’ নামক আরেকটি শব্দের প্রসঙ্গ টেনে রনি বলেন, “এই প্রাণীটি মরুভূমিতে বাস করে, দেখতে বিশ্রী, গুইসাপ বা কুমিরের মতো হলেও আসলে কিছুই না। এমনকি আরব দেশগুলোতে এটি হালাল হলেও দেখতে এতটাই বিকৃত যে আমাদের দেশে এটি অরুচিকর বলেই ধরা হয়।”
রাজনীতিতে এখন যাকে অপছন্দ, তাকে ‘সান্ডা’ বলে হেয় করা হচ্ছে। তার মতে, এই শব্দচয়ন মানুষের সম্মানহানির চরম রূপ, যা রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক বিপজ্জনক জায়গা নির্দেশ করছে।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, “নিমডা” শব্দটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে ভারতীয় সিনেমা ‘বাহুবলী’র একটি ডায়লগ থেকে। এর অর্থ—‘তোমাকে মেরে ফেলবো’। এই শব্দকেও এখন রাজনৈতিক বিদ্রুপে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “ঢাকার দক্ষিণ সিটির মেয়র পদের জন্য যখন ইশরাক হোসেন আন্দোলন শুরু করেন, তখন একদল যুবক তার বিরুদ্ধে ‘নিমডা’ শব্দটি প্রচারে ব্যবহার করে। এটি তাকে মানসিকভাবে বিব্রত করছে।”

এই ধরণের শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে রাজনীতিকে একটি কৌতুক, অপমান আর অবজ্ঞার মঞ্চে পরিণত করা হচ্ছে বলেই তিনি মনে করেন।

গোলাম মাওলা রনি আরও বলেন, “এই শব্দগুলোর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যাবে, আমাদের সমাজ কোন দিকে যাচ্ছে। রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও হয়তো এই স্লোগান, ব্যঙ্গ আর বিদ্রুপের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে। আগামী পাঁচ বা দশ বছরের রাজনীতির দিকনির্দেশনা এখনই বলা সম্ভব এই ট্রেন্ড দেখেই।”

তিনি বলেন, এই প্রবণতা যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে রাজনীতিতে ভাবনার জায়গা, নীতির জায়গা ও আদর্শের জায়গা একেবারে হারিয়ে যাবে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মতাদর্শের দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। কিন্তু যেভাবে 'ডাস্টবিন', 'সান্ডা', 'নিমডা' প্রভৃতি শব্দ রাজনীতির অঙ্গ হয়ে উঠেছে, তা নিছক ভাষার অবনমন নয়—এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও চরম পতনের আলামত। গোলাম মাওলা রনির এই পর্যবেক্ষণ আমাদের সবাইকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে—আমরা কোথায় যাচ্ছি?

No comments found


News Card Generator