আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো 'ব্রেন ডেথ' বা মস্তিষ্কের মৃত্যু। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভেন্টিলেটরের সাহায্যে শুয়ে থাকা রোগীকে বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় তিনি জীবিত—মনিটরে নিয়মিত হৃদস্পন্দনের রেখা, শরীরের স্বাভাবিক উষ্ণতা এবং বুকের ওঠানামা স্পষ্ট। কিন্তু চিকিৎসকের ভাষায়, রোগীটির জীবনাবসান ঘটেছে। এই কঠিন বাস্তবতা পরিবারের সদস্যদের জন্য মানসিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
'ব্রেন ডেথ' বলতে এমন একটি অবস্থাকে বোঝায়, যেখানে মানুষের মস্তিষ্ক এবং ব্রেনস্টেম স্থায়ীভাবে সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর হয়ে যায়। যদিও ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস এবং কৃত্রিমভাবে হৃদযন্ত্র সচল রাখা সম্ভব, তবুও মস্তিষ্ক শরীরের কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সহজ কথায়, শরীরের অন্য অংশ সচল থাকলেও মস্তিষ্কের সব ধরনের কার্যক্রম চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
সাধারণত গুরুতর স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, মারাত্মক মাথায় আঘাত, মস্তিষ্কে দীর্ঘ সময় অক্সিজেনের অভাব, বা মস্তিষ্কের টিউমারের মতো মারাত্মক কারণে মস্তিষ্কের কোষগুলো স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। যেহেতু মস্তিষ্কের নষ্ট হয়ে যাওয়া কোষগুলো আর পুনরুদ্ধারযোগ্য নয়, তাই এটি ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুসারে, ব্রেন ডেথ ঘোষণা করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। একজন নিউরোলজিস্ট বা বিশেষ চিকিৎসক একাধিক কঠোর পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করেন। চেতনার সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি, মস্তিষ্কের সব ধরনের রিফ্লেক্স বন্ধ থাকা (যেমন: চোখে আলো ফেললে পিউপিলের প্রতিক্রিয়া না হওয়া) এবং ভেন্টিলেটর ছাড়া নিজে থেকে শ্বাস নিতে না পারার অক্ষমতা—এই তিনটি প্রধান বিষয় নিশ্চিত করা হয়। একবার ব্রেন ডেথ নিশ্চিত হলে, আইন অনুযায়ী সেই দিনটিই মৃত্যুর তারিখ হিসেবে গণ্য করা হয়। কোমা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এই অবস্থাটি মস্তিষ্কের সব কার্যক্রমের চিরতরে সমাপ্তি নির্দেশ করে।



















