বন্যামুক্ত আধুনিক সিলেটের স্বপ্ন: প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে সাড়ে ৭ হাজার কোটির মেগা প্রকল্পের যাত্রা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
বন্যামুক্ত আধুনিক সিলেটের স্বপ্ন: প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে সাড়ে ৭ হাজার কোটির মেগা প্রকল্পের যাত্রা..
বন্যামুক্ত আধুনিক সিলেটের স্বপ্ন: প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে সাড়ে ৭ হাজার কোটির মেগা প্রকল্পের যাত্রা..
আজ শনিবার (২ মে) বেলা ১১টার দিকে ঐতিহাসিক সুরমা নদীর তীরের চাঁদনীঘাট এলাকায় ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।..

সিলেট নগরীকে স্থায়ীভাবে বন্যা ও জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে এক বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (২ মে) বেলা ১১টার দিকে ঐতিহাসিক সুরমা নদীর তীরের চাঁদনীঘাট এলাকায় ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আধ্যাত্মিক নগরীতে এটিই তাঁর প্রথম সরকারি সফর।

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও গুরুত্ব

ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সিলেটবাসী যে ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তা বিবেচনায় রেখেই এই মেগা প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্পটি মূলত দুটি প্রধান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে: বন্যা প্রতিরোধ এবং নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন।

মেগা প্রকল্পের বিশেষ দিকসমূহ:

  • আধুনিক ড্রেনেজ ও পাম্পিং স্টেশন: নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ১৩টি প্রাকৃতিক ছড়ার মুখে আধুনিক স্লুইসগেট এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প স্থাপন করা হবে। বিশেষ করে কাজীরবাজারের বৈঠাখাল, ছড়ারপাড়ের গোয়ালীছড়া এবং বোরহানউদ্দিন এলাকার হলদিছড়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে যাতে নদীর পানি উল্টো পথে নগরীতে প্রবেশ করতে না পারে।

  • সুরমা নদীর দুই তীরে প্রতিরক্ষা দেয়াল: শাহপরাণ সেতু থেকে বাদাঘাট সেতু পর্যন্ত সুরমার দুই তীরের প্রায় সাড়ে ১৭ কিলোমিটার এলাকা উঁচু করা হবে। যেখানে জমি কম, সেখানে নির্মাণ করা হবে শক্তিশালী ‘ফ্লাড ওয়াল’।

  • অর্থায়ন: প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। অবশিষ্ট অর্থ বিদেশি সহায়তায় সংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততম দিন

আজ সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে বাসিয়া খাল খননকাজের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণে 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬'-এর জমকালো উদ্বোধন করবেন তিনি। এরপর বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন।

নগরবাসীর প্রত্যাশা

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। পাহাড়ী ঢল কিংবা অতিবৃষ্টিতে সিলেটবাসীকে আর দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার ভোগান্তি সইতে হবে না। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের ফলে পর্যটন নগরী হিসেবে সিলেটের গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে।

Aucun commentaire trouvé


News Card Generator