close

ভিডিও আপলোড করুন পয়েন্ট জিতুন!

বিশ্বনেতৃত্বের নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল বেইজিং

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
সাফল্যের মূল চাবিকাঠি: বিওয়াইডি গাড়ির প্রয়োজনীয় সব অংশ নিজেরা তৈরি করে এবং বিশেষত তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি 'ব্লেড ব্যাটারি' (Blade Battery) তাদের সাফল্যের প্রধান কারণ।..

সিলিকন ভ্যালির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা চীন বর্তমানে মানব-সদৃশ রোবট, দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং অত্যাধুনিক স্মার্ট সিটির মাধ্যমে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বৈশ্বিক নেতৃত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞরা চীনের এই নীরব উত্থানকে 'ভবিষ্যতের দৌড়' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, যেখানে চীন শুধু সস্তা পণ্যের কারখানা নয়, বরং উদ্ভাবনী ধারণা এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তির জন্মস্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। 

চীন এখন 'আবিষ্কারের কারখানা' হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছে, যা আমেরিকার জন্য একটি গভীর উদ্বেগের কারণ। ভিডিওতে দেখা গেছে, চীনের সবচেয়ে উন্নত শহর শেনজেন এবং হংঝু-এর মতো স্থানগুলি প্রযুক্তি বিপ্লবের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই বিপ্লবের মূল ভিত্তি হলো বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডি (BYD)-এর বিশ্ব-বাজার দখল, উন্নত এআই প্রযুক্তি এবং শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন বিভিন্ন সংঘাত ও যুদ্ধে ব্যস্ত ছিল, তখন চীন নীরবে খেলার নিয়ম পাল্টে দেওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছে।

চীনের প্রযুক্তিগত উত্থানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিওয়াইডি (Build Your Dreams)। একসময় ছোট একটি ব্যাটারি বিক্রির ব্যবসা হিসেবে শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি এখন বিশ্বের বৃহত্তম বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) প্রস্তুতকারক এবং টেসলার জন্য এক বিশাল 'দুঃস্বপ্ন' হিসেবে বিবেচিত।

  • সাফল্যের মূল চাবিকাঠি: বিওয়াইডি গাড়ির প্রয়োজনীয় সব অংশ নিজেরা তৈরি করে এবং বিশেষত তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি 'ব্লেড ব্যাটারি' (Blade Battery) তাদের সাফল্যের প্রধান কারণ।

  • অসাধারণ প্রযুক্তি: বিওয়াইডি-এর কিছু গাড়ি ৩৫ মিনিটের মধ্যে ৪০০ কিমি পর্যন্ত চার্জ হতে পারে। কিছু মডেলে বিনোদনের জন্য গাড়িটিকে ঝাঁকানোর (Shaking) মতো ফিচার রয়েছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ হলো, তাদের একটি মডেল ৩০ মিনিট পর্যন্ত পানিতে ভাসতে (Amphibious Mode) এবং চলতে পারে, যা বন্যার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে কাজে লাগতে পারে।

  • উৎপাদন ক্ষমতা: এই কোম্পানিটি বর্তমানে প্রতি মিনিটে একটি করে গাড়ি এবং প্রতিদিন প্রায় ১৪০০টি গাড়ি তৈরি করছে, যা বিশ্বজুড়ে রপ্তানি করা হচ্ছে।

এক দশক আগেও শেনজেন ছিল একটি ছোট মাছ ধরার গ্রাম। এখন এটি 'প্রাচ্যের সিলিকন ভ্যালি' এবং বিশ্ব প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কেন্দ্র। এই শহরের দৈনন্দিন জীবন রোবট এবং স্মার্ট প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল:

  • নিরাপত্তা ও ডেলিভারি: শহরজুড়ে সর্বত্র ক্যামেরা রয়েছে, যা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। সান ফ্রান্সিসকোর মতো শহরের মতো এখানে কোনো গৃহহীন মানুষ বা চুরির ঝুঁকি নেই। শহরে ড্রোন দিয়ে কফি বা অন্য পণ্যের ডেলিভারি দেওয়া হয়।

  • চালকবিহীন গাড়ি: শহরে চালকবিহীন গাড়িগুলো অ্যাপের মাধ্যমে ডাকা যায় এবং তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গন্তব্যে পৌঁছায়।

  • বায়োমেট্রিক পেমেন্ট: শেনজেনের মানুষ পেমেন্টের জন্য তাদের হাতের তালুর ছাপ (Palm Print) ব্যবহার করে, যা উইচ্যাট (WeChat)-এর সঙ্গে সংযুক্ত।

  • গতির চ্যালেঞ্জ: সাংহাইয়ে একটি ম্যাগলেভ ট্রেন রয়েছে যা বিমানবন্দর থেকে শহর পর্যন্ত যাত্রীদের নিয়ে যায় এবং এটি জাপানের তৈরি ৬০০ কিলোমিটার/ঘণ্টার ট্রেনের গতিকে চ্যালেঞ্জ করে ৪৩১ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে চলতে পারে।

চীন বর্তমানে মানব-সদৃশ রোবট উৎপাদনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ঝেজিয়াং প্রদেশের হংঝু শহরে ইউনিট্রি রোবোটিকস (Unitree Robotics) এবং শানডং প্রদেশে ইএক্স রোবটস (EX Robots)-এর মতো কোম্পানিগুলো অত্যাধুনিক রোবট তৈরি করছে:

  • ইউনিট্রি জি১ (Unitree G1): ১.২৭ মিটার লম্বা এই রোবটটি খুবই নমনীয় এবং এটি অবিশ্বাস্য ভারসাম্য ও নড়াচড়া করতে পারে। এর দাম প্রায় $১৬,০০০ এবং এটি বোস্টন ডায়নামিক্সের 'অ্যাটলাস' রোবটকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য প্রস্তুত।

  • ইএক্স রোবট: এই কোম্পানিটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত 'মানুষের মতো' দেখতে রোবট তৈরি করছে, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যটনের মতো ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে। এই রোবটগুলো নিজেরাই নিজেদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি করছে।

বিশ্লেষকের মতে, যখন বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলো পুরনো সংঘাত নিয়ে ব্যস্ত ছিল, তখন চীন নীরবে ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে বৈশ্বিক অঙ্গনে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে।

لم يتم العثور على تعليقات


News Card Generator