চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযুদ্ধ, নদীভাঙনের আতঙ্ক আর উন্নয়নবঞ্চিত বাস্তবতা—এই সবকিছুকে সামনে রেখে ভোটের মাঠে নেমেছেন নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী নাজমুস সাকিব। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ-১ আসন (কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার একাংশ) জুড়ে তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের নাটুয়ারপাড়া এলাকায় চরবাসীর দারে দারে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। এ সময় সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেন লিফলেট, শোনেন তাদের অভাব-অভিযোগ, কথা বলেন ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে। নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষের চোখেমুখে যেমন ছিল কষ্টের গল্প, তেমনি ছিল পরিবর্তনের আশাও।
গণসংযোগকালে নাজমুস সাকিব বলেন, “জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। উন্নয়ন ও সুশাসনের মাধ্যমে কাজিপুরকে একটি বাসযোগ্য ও সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তর করতে চাই।”
তিনি আরো বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর অবহেলিত থেকে গেছে। এই অবস্থা পরিবর্তনে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তিনি জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও নদীভাঙন প্রতিরোধ—এই চারটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবেন। বিশেষ করে যমুনা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং চরাঞ্চলে চিকিৎসা ও শিক্ষাসেবার বিস্তারে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এছাড়াও চরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী যমুনা উপজেলা চাই। আর সেই দাবী বাস্তাবায়নের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।প্রচারণাকালে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে চরাঞ্চলের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা উঠে আসে। অনেক ভোটারই বলেন, তারা এবার পরিবর্তন চান এবং নতুন ধারার রাজনীতির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন। নাগরিক ঐক্যের প্রার্থীর প্রতি সমর্থনের কথাও জানান তারা।
নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালানোর কথা জানিয়ে নাজমুস সাকিব বলেন, “ভোটারদের সিদ্ধান্তই হবে ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা।” তিনি সবাইকে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
চরাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এই প্রচারণা শুধু ভোট চাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—বরং দীর্ঘদিনের অবহেলিত জনপদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিধ্বনি হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।



















