close

ভিডিও আপলোড করুন পয়েন্ট জিতুন!

ভোরে মহাসড়কের পাশে যুবকের নিথর দেহ

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ভালুকায় মহাসড়কের ধারে পড়ে ছিল যুবকের মরদেহ। পারিবারিক কলহ, আত্মহত্যা না হত্যা—রহস্য ঘনিয়ে এসেছে চারপাশে।..

ময়মনসিংহের ভালুকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশ থেকে এক যুবকের রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে চাঞ্চল্য। নিহতের নাম মো. নাজমুল ইসলাম (২৮)। তার বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পলাশকান্দা গ্রামে। পিতা ছিলেন মৃত রুহুল আমীন। নাজমুল এক সন্তানের জনক এবং তার স্ত্রী মারিয়া আক্তার কাজ করতেন গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায়।

আজ রবিবার (২২ জুন) সকাল বেলা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের জামিরদিয়া গ্রামের এলএক্স স্কয়ার কারখানার পাশে মহাসড়কের ধারে একটি নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে অবহিত করেন।

পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে নিহতের পরিবারের সদস্যরা এসে শনাক্ত করেন যে এটি নাজমুল ইসলামের দেহ। ঘটনাস্থলটি এলএক্স স্কয়ার নামের একটি পোশাক কারখানার খুব কাছাকাছি হওয়ায় সেটিকে ঘিরেও নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র এবং নিহতের আত্মীয়রা জানান, নাজমুল ও তার স্ত্রী মারিয়ার মধ্যে বিগত কয়েক মাস ধরেই পারিবারিক কলহ চলছিল। মারিয়া গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার জয়নাবাজার এলাকার ওই পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। সংসার ও দূরত্বজনিত নানা বিষয়ে তাদের মধ্যে মাঝে মাঝেই তীব্র বাকবিতণ্ডা হতো বলে জানা যায়।

নিহতের ঘনিষ্ঠ একজন আত্মীয় জানান, নাজমুল মাঝেমধ্যে বলতো, সংসার করতে তার ভালো লাগে না। মারিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক দিন দিন খারাপ হচ্ছিল।

ভালুকা মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, “মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। সুরতহাল শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।”

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুটি প্রাথমিকভাবে রহস্যজনক মনে হচ্ছে। এটি আত্মহত্যা না পরিকল্পিত কোনো হত্যাকাণ্ড—তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই বলা যাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।

এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। হঠাৎ করে সড়কের ধারে এক যুবকের লাশ—তা-ও আবার একটি পোশাক কারখানার নিকটে—সচেতন নাগরিকদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া বলেন, এলাকাটা সাধারণত শান্ত। হঠাৎ করে এইভাবে লাশ পাওয়া সত্যিই ভয়ংকর। আমরা চাই পুলিশ সঠিক তদন্ত করুক।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কথা বলা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং শেষ ২৪ ঘণ্টায় নিহতের গতিবিধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, মোবাইল কললিস্ট ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

নাজমুল ইসলামের মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি অপরাধমূলক—এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। তবে তার হঠাৎ মৃত্যুর ঘটনায় চারপাশে রহস্যের কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। পারিবারিক কলহ ছিল সত্য, কিন্তু তা আত্মহত্যায় গড়াল নাকি পরিকল্পিত হত্যায় রূপ নিল—এই প্রশ্ন এখন পুরো এলাকায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

পুলিশ বলছে, তদন্ত চলছে, অচিরেই সব বেরিয়ে আসবে।আর সাধারণ মানুষ চেয়ে আছে—এই মৃত্যু যেন একটি নামহীন সংখ্যায় পরিণত না হয়।

Ingen kommentarer fundet


News Card Generator